1. [email protected] : bijoy datta : bijoy datta
  2. [email protected] : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক
  3. [email protected] : শেয়ারবার্তা.কম : শেয়ারবার্তা.কম
বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১০ অপরাহ্ন

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

দেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় চলমান অস্থিরতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খেলাপি ঋণ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত অষ্টম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের শেষ দিন প্যানেল আলোচক ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে সাতটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ও ভারতের অংশগ্রহণকারীরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা।

ব্যাংক খাতের অস্থিরতা নিরসন-সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে সঞ্চালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে ব্যাংকগুলো খেলে যাচ্ছে। অনিয়মের কারণে ফারমার্স ব্যাংককে পদ্মা নামে নতুন অবয়বে চালু করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে অবসায়ন করা হয়েছে। আরও বেশ কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক যে তথ্য প্রকাশ করে তার চেয়ে অনেকে বেশি খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতে রয়েছে। আমরা আশা করব, সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে। নইলে আট শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কেননা ব্যাংক খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য পেলে দেখা যাবে এটা দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঋণ অবলোপন কোনো সমাধান নয়। এতে সাময়িকভাবে ব্যাংকটিকে ভালো দেখালেও দিন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ থেকেই যাবে।’ অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের কাজ জোরদার করার পরামর্শ দেন এই গবেষক।

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকে অস্থিরতা নির্ণয়ে যত গবেষণাই হোক না কেন ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’ ব্যাংক পরিচালনায় স্বতন্ত্র পরিচালকরা বড় ধরনের অবদান রাখছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য একটি গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনাকালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “পুঁজিবাজারে লাভবান হচ্ছে ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ারের কোম্পানিগুলো। আমরা দেখেছি একটি নির্দিষ্ট সময়ে ৬১ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি লাভবান হচ্ছে, যেখানে ‘এ’ ক্যাটেগরির ৫৬ শতাংশ লাভবান হচ্ছে। এটি একটি আশ্চর্যজনক চিত্র। আমি মনে করি পুঁজিবাজারে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা দরকার।”

বিআইবিএমের পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং কনসালটেন্সি, প্রশাসন ও হিসাব) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘ঋণ ফেরত না দিয়ে পার পাওয়া যাবে, এমনটা ভেবে অনেকেই ব্যাংকে যায়। আবার ব্যাংকও দেখে একটি পার্টিকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিলে পরিচালন ব্যয় অনেক কমে যাবে। চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিকের মনোভাব এমন। অথচ এই পাঁচ হাজার কোটি টাকা ৫০০ উদ্যোক্তাকে ঋণ দিলে পরিস্থিতি অনেক ভালো হতো।’

ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. সরোয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষেত্রেই বুঝে উঠতে পারে না কোন কোম্পানি ভালো করবে এবং কোন কোম্পানি খারাপ করবে। তারা দেখে কোন শেয়ারের দাম বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মন্দ শেয়ারের দাম বাড়ে। এ কারণে বিনিয়োকারীদের জ্ঞান বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

এ প্রসঙ্গে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের এখানে বিনিয়োগকারীরা প্রতিবছর লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে। কেননা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানিটি ভালো করবে কি না তারা সে বিষয়ে সন্দিহান থাকে। অথচ আমরা অ্যাপলের দিকে তাকালে দেখতে পাই, তারা গত ৯ বছর ধরে কোনো লভ্যাংশ দেয় না। কিন্তু তাদের শেয়ারের দর কোনোভাবেই কমেনি।’

একই দিন ইনস্টিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরির সভাপতিত্বে ‘টেকসই ব্যাংকিং ও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা’ শীর্ষক আরও একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান।

শেয়ারবার্তা / হামিদ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন...

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ