1. [email protected] : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক
  2. [email protected] : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক : শেয়ারবার্তা প্রতিবেদক
  3. [email protected] : শেয়ারবার্তা.কম : শেয়ারবার্তা.কম
ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব জব্দে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব জব্দে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০
Crest-securities_

অফিস বন্ধ করে দিয়ে হঠাৎ লাপাত্তা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব জব্দ (freeze) হচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়েছে।

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ এবং তার স্ত্রীর নামে থাকা ব্যাংক হিসাবও জব্দ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিএসইসির চিঠিতে।

বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ব্যাংক হিসাব জব্দের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সাইফুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ব্যাংক থেকে যাতে নতুন করে কোনো টাকা তুলে না নিতে পারে সে লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনার অনুসন্ধান ও তদন্তের পর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আইন অনুসাযী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইতোমধ্যে শেয়ার গচ্ছিত রাখার আধার সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল) এ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ডিপি একাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে, যাতে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি লেনদেন করতে না পারে অথবা লিংক একাউন্টের মাধ্যমে অন্য ব্রোকারহাউজে শেয়ারে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হয়।

অন্যদিকে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় লকডাউন বা তালাবদ্ধ করে দিয়ে নিজেদের জিম্মায় দেবে ডিএসই। এরপর বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য টাকা ও শেয়ারের তথ্য জানতে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষ নীরিক্ষা (Audit) চালানো হবে। সিডিবিএলের কাছ থেকেও বিস্তারিত প্রতিবেদন নেবে ডিএসই।

মালিকপক্ষ যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে না এলে ডিএসই কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুসারে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সদস্যপদ ও ট্রেক লাইসেন্স বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ সর্বশেষ লেনদেনে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি ২১ জুন পর্যন্ত লেনদেন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হলেও পরের দুদিনের লেনদেন নিষ্পত্তি হয়নি। নিয়ম অনুসারে, ডিএসই বাজার থেকে শেয়ার কিনে ওই লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে। এর মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ব্রোকারহাউজটির প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিস বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আসে ডিএসইতে।

একদিকে লেনদেন নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএসই ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লারহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়। প্রতিষ্ঠানটির অফিসে ফোন দেওয়ার পরেও তা কেউ রিসিভ করেনি। এমন অবস্থায় ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল রাজধানীর পল্টনে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের কার্যালয় এবং ধানমন্ডিতে শহীদুল্লার বাসায় খোঁজ নিয়ে সেগুলো বন্ধ পায়। পরে পুরো বিষয়টি মৌখিকভাবে বিএসইসিকে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকপক্ষ বিদেশে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। তিনি ইতোমধ্যে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে রেখেছিলেন কি-না সে বিষয়ে অবশ্য কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।

রাজধানীর পল্টনে প্রধান কার্যালয়ের বাইরে কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের দুটি শাখা রয়েছে।

গত এক মাসে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কম থাকায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের পক্ষে বেশি টাকা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, তার ধারণা ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিক যদি পালিয়েও গিয়ে থাকেন, তাহলে বড়জোর ১৫/২০ কোটি নিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। কারণ গত এক মাসের লেনদেনচিত্র অনুসারে এখান থেকে ৫ কোটি টাকা বের করে নেওয়াও প্রায় অসম্ভব। তবে প্রতিষ্ঠানটির কিছু বড় গ্রাহক ছিল। এ ধরনের অনেক গ্রাহক দীর্ঘদিন নিজেদের অ্যাকাউন্টের খোঁজখবর নেন না। তাই সাধারণ ছুটিতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে যদি ওই ধরনের কিছু গ্রাহকের টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে তাহলে অঙ্কটি ১৫/২০ কোটি টাকা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরিয়ে নেওয়া টাকার পরিমাণ ২০/২৫ কোটি টাকার বেশি না হলে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফিরিয়ে দিতে কোনো সমস্যাই হবে না। ডিএসইর সদস্য পদ ও ট্রেক লাইসেন্স বিক্রি করে সেই টাকা থেকে এগুলো পরিশোধ করা সম্ভব। কিন্তু টাকার পরিমাণ বেশি হলে একটু জটিলতা দেখা দেবে। যদিও এই ধরণের সমস্যায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে ইনভেস্টর প্রটেকশন নামে ডিএসইতে একটি বিশেষ তহবিল আছে, কিন্তু এর প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ।

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন...

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ