অনিয়ম, দুর্নীতি আর নানা অব্যবস্থাপনায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এসব ঋণ এখন মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের অর্থ শেষ করে এখন মূলধনের ঘাটতিতে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি নয় ব্যাংক। এরমধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত: মূলধনও খেয়ে ফেলেছে এ নয় ব্যাংক। মূলধন খাওয়ার তালিকায় এ নয় ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, বেসিক, কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, ব্যবসার পরিবর্তে এসব ব্যাংক এখন মূলধন জোগান নিয়েই চিন্তিত। চলতি বছরের শুরুতে মূলধন ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংক। কারণ ঘাটতিতে থাকায় এসব ব্যাংক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই ব্যাংক রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন ঘাটতির মেটানোর দিকে এগুচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতেবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৯০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকখাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ব্যাংকিং খাতের করুণ পরিণতি শুরু হয় ২০০৯ সালে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক এবং একই পন্থায় সরকারি ব্যাংকের এমডি-চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর থেকে এমন দশার সৃষ্টি হয়। এর আগে ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতির কিসসা তেমন শোনা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ব্যাংক খাতে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে। আর খেলাপি ঋণ বাড়লে মান অনুযায়ী নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হয়। সে কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এভাবে জনগণের জমানো টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ হিসেবে তুলে দেয়া হচ্ছে একশ্রেণীর মাফিয়ার হাতে, যা ধাপে ধাপে কৃঋণে পরিণত হচ্ছে।



শেয়ারবার্তা / মামুন