পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ খুবই লাভের, আবার ঝুঁকিপূর্ণও। তবে যারা বিচার-বিশ্লেষণ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন, তারা লাভের পথেই থাকেন। আর যারা হুজুগে বা গুজবে বশবর্তী হয়ে বিনিয়োগ করেন, তাদের অবস্থা শোচনীয় হবে-এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সেজন্য পুঁজিবাজারে কিভাবে বিনিয়োগ করতে হবে, কেমন শেয়ার কিনতে হবে, কখন কিনতে হবে, আবার কখন বিক্রি করতে হবে; তা সঠিকভাবে না জেনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা সমীচীন নয়। পুঁজিবাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য জেনে নেওয়া যাক ৬টি কৌশল…

১. দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ:
একটি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। আপনি কত দিনের জন্য বিনিয়োগ করবেন। ৬ মাস, ৯ মাস, ৩ বছর, ৫ বছর কিংবা তার বেশি। আপনি হয়তো অবসরকালীন, জমি ক্রয়, বাড়ি তৈরি, ফ্লাট ক্রয়সহ নানা কাজে ব্যয়ের জন্য বিনিয়োগ করতে চান। আপনার ওই কাজ সম্পন্ন করার জন্য মেয়দী লক্ষ্য জরুরি।

তাই বিনিয়োগের আগে আপনাকে ঠিক করতে হবে কত দিন বিনিয়োগ করতে চান এবং কি পরিমাণ মুনাফা পেতে চান। কারণ মুনাফার হার বেশি পেতে চাইলে ঝূঁকির পরিমানও বেড়ে যায়।

২. ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুধাবন:
আপনি কী পরিমাণ মুনাফা পেতে চান তার ওপর নির্ভর করছে ঝুঁকি কতটা বেশি। মুনাফা যত বেশি হবে ঝুঁকির পরিমাণও তত বাড়বে। আসলে একেক জনের ঝূঁকি নেওয়ার ক্ষমতা একেক রকম। আপনাকে ঠিক করতে হবে ১০০ টাকায় ১০০ টাকা পেতে চান নাকি ১ হাজার টাকা। তবে সিকিউরিটিজ সম্পর্কে জ্ঞান ও বাছাই করে কেনার ক্ষমতা অনেক সময় ঝূঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই এমন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ উচিত নয় যে বিনিয়োগ আপনাকে রাতে ঘুমাতে দেবে না। তাই বিনিয়োগের অনিশ্চিত সময়ে ঠাণ্ডা মাথায় বিনিয়োগকারীকে ঝূঁকি কমিয়ে সামনে আগোনো উচিত।

৩. আবেগ নিয়ন্ত্রণ:
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে লাভ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো আবেগ। পুঁজিবাজারে একটি কোম্পানির শেয়ার সম্পর্কে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীর ইতিবাচক ধারণা থাকলে ওই কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে থাকে। এর বিপরীত হলে কমতে থাকে। বুল ও বেয়ার মার্কেটের এই দরের ওঠানামা যতটা না কোম্পানির ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ও ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করে; তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে গুজব, ধারণা, উচ্চাশা ও আবেগের ওপর। সুতরাং নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য আবেগের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

৪. বিনিয়োগের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন:
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বাজার সম্পর্ককে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। আপনাকে জানতে হবে পিই রেশিও কি, ইপিএস কি, এনএভি কি, সিএজিআর কি? আ জানা দরকার এগুলো কিভাবে হিসাব করতে হয় তা।

আপনাকে জানতে হবে একটি শেয়ার কতভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। শেয়ার লেনদেন করার জন্য বিভিন্ন অর্ডার জানতে হবে। এছাড়া লেদেনের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে।

৫. বিনিয়োগে বৈচিত্রকরণ:
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অবশ্যই বৈচিত্র থাকতে হবে। আপনার সব বিনিয়োগ একটি শেয়ারে রাখলে চলবে না। একজন বিচেক্ষণ বিনিয়োগকারীর বৈশিষ্ট্য হলো বিনিয়োগটাকে একটি শেয়ারে আটকে না রেখে সঠিক পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করা।

ধরুন, আপনি ৫ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে আপনাকে ২টি কোম্পানির শেয়ার ২০ শতাংশ মুনাফা দিলো। আর ২ টি কোম্পানির শেয়ারে পেলেন ১০ শতাংশ মুনাফা। তবে ১ কোম্পানিতে আপনার ১৫ শতাংশ লোকসান হলো। সব মিলে পোর্টফোলিওতে লোকসান কিন্তু কমিয়ে আনা গেল।

বিনিয়োগে বৈচিত্রকরণ আপনাকে মোট লোকসান কমিয়ে আনবে সহায়তা করবে।

৬. মার্জিন থেকে দূরে থাকা:
পুঁজিবাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের একটা বড় শর্ত হলো আপনাকে মার্জিন ঋণ নেওয়া থেকে যত সম্ভব দুরে থাকতে হবে। মার্জিন নিয়ে শেয়ার কেনার কারণে হয়তো আপনাকে বিনিয়োগের অন্যান্য পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারবেন না। তাতে বেশিরভাগ সময়ে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হবে।

শেয়ারবার্তা / মাসুদ