বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ শতাংশের বেশি উঠেছে। যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। যার খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ। আর শ্রীলঙ্কায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ পাঁচ শতাংশের কম। সেখানে এত কম কেন? কারণ শ্রীলঙ্কার ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ করে থাকে। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায়ও খেলাপি ঋণ কম। তাই তারল্য সংকট কমাতে হলে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ডিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পরিচালক মো. রকিবুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সালমা নাসরীন, এনডিসি।

মো. রকিবুর রহমান বলেন, এবার বাজেটে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং নীতিগত কিছু আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু হতাশার বিষয় হচ্ছে, বাজারের টার্নওভার ক্রমাগত কমে যাছে। শুধু যে টার্নওভার কমে যাচ্ছে তা নয়। সূচক এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাচ্ছে। কোনোমতেই বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না। আসলে বাজার কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? বাজারে ভালোমানের কোনো কোম্পানি নেই। যা আছে বেশিরভাগই স্বল্পমূলধনি। আর গত এক মাস ধরে স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ এদের মূলধন ও শেয়ার সংখ্যা কম। সহজেই কারসাজি করা যায়। ফলে এ ধরনের শেয়ারের দর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গ্রামীণফোনের পর এ পর্যন্ত ভালো কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি এবং বহুজাতিক কোম্পানি আসতে পারেনি। এখন বাজারে চরম তারল্য সংকট ও বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতা বিরাজ করছে। যখন বাজারে তারল্য সংকট থাকে বা কোনো তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে কীভাবে? তারল্য বাড়িয়ে বাজারকে সহযোগিতা করা যায়, কিন্তু কয়েক বছর ধরে তাদের এ ধরনের ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় এগিয়ে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাজার ভালো করা যাবে না। বাজারে আস্থা তৈরি না হলে বিনিয়োগকারী আসবেন না।

সালমা নাসরীন বলেন, পুঁজিবাজারের যে অবস্থা এটি স্থিতিশীল রাখা এককভাবে সম্ভব নয়। বিশ্বের পুঁজিবাজারে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্মিলিতভাবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আমাদের দেশের এমনটি দেখা যায় না। আরেকটি আশ্চর্যের বিষয়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দেশে দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছে। অথচ পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। কিন্তু এসব কোম্পানি ঠিকই ভারতের পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। আসলে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত যেসব নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানি মার্কেটের কাজ হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়া আর ক্যাপিটাল মার্কেটের কাজ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা। কিন্ত ব্যাংক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ঋণই দিয়ে থাকে। ফলে বাজারে বড় ধরনের তারল্য সংকট বিরাজ করছে। বর্তমানে দেশে ১১ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ। কেন ১১ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ। যেখানে ভারতে ১০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ খেলাপি ঋণ। শ্রীলঙ্কা এত কম কেন? কারণ শ্রীলঙ্কার ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ করে থাকে। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও রয়েছে। তাই তারল্য সংকট কমাতে হলে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

শেয়ারবার্তা / আনিস