পুঁজিবাজারের অবস্থা বর্তমানে মোটেই ভালো নয়। প্রত্যেকটা খাতের শেয়ারের দাম কমে যাচ্ছে। আসলে বাজারের বড় সমস্যা বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা। কোম্পানিগুলো এই লোভনীয় বোনাস শেয়ারের ঘোষণা দিচ্ছে। পরে দেখা গেছে, বোনাস শেয়ারগুলো ক্রেডিট হওয়ার পর কোম্পানিটির পরিচালক বা স্পন্সর বোনাস শেয়ারগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে। যখন ওই শেয়ারগুলো বাজারে আসে, তখন ওই বোনাস শেয়ারের লোড সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিতে পারে না। ফলে ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজারের টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট মো. রহমত উল্লা এবং বালি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের পরিচালক মো. আরিফুর রহমান।

 

পুঁজিবাজারের টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট মো. রহমত উল্লা বলেন, পুঁজিবাজারে ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ থেকে জানুয়ারির ১৭ তারিখ পর্যন্ত যে পরিমাণ শেয়ারের দাম বেড়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি সংশোধন হয়েছে গত কয়েকদিনে। আসলে ব্যাপক সংশোধনের কিছু কারণ রয়েছে।

রহমত উল্লা আরও বলেন, সাধারণভাবে বলতে গেলে যখন কোনো কোম্পানি বোনাস শেয়ার দেয়, তখন ওই কোম্পানির রিজার্ভ কমে যায়। ফলে একদিকে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে কোম্পানির মূল্যও কমে যাচ্ছে। আবার কোনো কোনো কোম্পানি ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে। কথা হচ্ছে হঠাৎ করে ওইসব কোম্পানির এত টাকার প্রয়োজন হলো যে, ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিতে হবে। এটার যদি জবাবদিহিতা থাকত তাহলে বাজার আরও ভালো হতো।
মো. আরিফুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। প্রত্যেকটা খাতের শেয়ারের দাম কমে যাচ্ছে। আসলে বাজারের বড় সমস্যা হচ্ছে বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা। কোম্পানিগুলো এই লোভনীয় বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে। পরে দেখা গেছে, বোনাস শেয়ারগুলো ক্রেডিট হওয়ার পর বিশেষ করে যারা পরিচালক বা স্পন্সর রয়েছে, তারা বোনাস শেয়ারগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে। যখন ওই শেয়ারগুলো বাজারে আসে, তখন ওই বোনাস শেয়ারের লোড সাধারণ বিনিয়োগকারী নিতে পারেন না। ফলে ওই কোম্পানির শেয়ারদর ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বর্তমানে বাজারের এরকম অবস্থা দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিগত বছরগুলোয় অনেক কোম্পানি ২৫, ২৭ এবং ২৮ শতাংশ লভ্যাংশ দিত এবং এর সঙ্গে বোনাস শেয়ারও দিত। তখন ওইসব কোম্পানির মৌলভিত্তি খুব শক্তিশালী ছিল এবং ইপিএসও ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাজারের এরকম অবস্থা তৈরি হয়েছে, গত তিন থেকে চার বছরে বাজারে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং একই অবস্থানে রয়েছে। আবার বাজারে যে পরিমাণ আইপিও আসছে, ওইসব আইপিও কোম্পানিগুলো বেশিরভাগই স্বল্প মূলধনি। এ স্বল্প মূলধনি কোম্পানি দিয়ে বাজার ভালো করা যাবে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা দুটি উদ্দেশ্য বিনিয়োগ করেন। একটি ক্যাপিটাল গেইন, অন্যটি লভ্যাংশ। বাজারের নিয়ম অনুযায়ী যদি কোনো কোম্পানি পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়, সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে ওই কোম্পানি মোটামুটি ভালো এবং ভবিষ্যৎতে ভালো করবে। কিন্তু সেই চিত্র বাজারে নেই। এবার বেশিরভাগ কোম্পানি বোনাস শেয়ার দিচ্ছে। তাহলে কেন বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগ করবে। অর্থাৎ বিনিয়োগ করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।

তিনি বিনিয়োগকারীর উদ্দেশ্যে বলেন, পুঁজিবাজারে একটা কথা প্রচলিত আছে, বুঝেশুনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী ৬০ পিই রেশিওতে বিনিয়োগ করে। আবার ৩০০ পিই রেশিওর কোম্পানির শেয়ারের দর ৪০০-৫০০ টাকায় রয়েছে, সেটাও বিনিয়োগকারীরা কিনে থাকে। ওইসব শেয়ার বিনিয়োগকারীরা কেন কিনে সেটা আমরা বলতে পারব না। একমাত্র যেসব বিনিয়োগকারী ওইসব শেয়ার কিনে তারাই সেটা ভালো বুঝেন। তারা হয়তো মনে করেন ওই শেয়ারটি ভালো। এসব চিন্তা-ভাবনা থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারগুলো কিনে থাকেন। এখন কথা হচ্ছে এখানে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় কে নেবে?

শেয়ারবার্তা / মামুন