ঢাকা, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

দেখে নিন ডেঞ্জারজোনে থাকা শেয়ারের তালিকা

২০১৭ নভেম্বর ১০ ১৪:৪৬:১৮
দেখে নিন ডেঞ্জারজোনে থাকা শেয়ারের তালিকা

বর্তমানে শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব বিরাজ করেছে। বাড়ছে লেনদেন, বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের বিচরণ, বাড়ছে শেয়ারদরও। এমনি ইতিবাচক বাজারে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্বে স্বল্প মূলধনি, লোকসানি ও দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচেছ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প মূলধনি, লোকসানি ও দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়াটা পুঁজিবাজারের জন্য সুখকর নয়। তবে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীর কাছে জেড গ্রুপের শেয়ারই সেরা পছন্দের। তাদের মতে, জেড গ্রুপের শেয়ারে যে পরিমাণে রিটার্ন পাওয়া যায়, অন্য গ্রুপের শেয়ারে সেটা পাওয়া যায়না্ । তাদের যুক্তি হলো, জেড গ্রুপের শেয়ার যেভাবে উঠানামা করে, অন্য গ্রুপের শেয়ার সেভাবে উঠানাম করে না। জেড গ্রুপের শেয়ার ধরে রাখলে লাভ হবেই হবে--এমনটাই তাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

কিন্তু বাজার বিশ্লেষকরা জেড গ্রুপের শেয়ার কেনার একেবারেই বিরুদ্ধে। তাঁদের মতে, মৌলভিত্তির শেয়ার কিনে মানিসিক শান্তি পাওয়া যায়। কারণ মৌলভিত্তির শেয়ার দীর্ঘ মেয়াদে হলেও লাভ দেয়। কিন্তু জেড গ্রুপের শেয়ার কেনা মানে ঘুম হারাম করে দেয়া। তাঁদের মতে, পুঁজিবাজারে এখনো বেশিরভাগ কোম্পানি শেয়ার বিনিয়োগ উপযোগি। কারণ বাজারের সার্বিক প্রাইস আর্নিং (পিই) রেশিও বা মূল্য আয় অনুপাত এখনও অনেক কম। সুতরাং জেড গ্রুপের শেয়ার পরিহার করে মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করাই উত্তম।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুঁজি্বাজারে বর্তমানে লোকসানি কোম্পানির সংখ্যা ৩৫টি। লোকসানি মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রকৃতিগতভাবে লোকসানি কোম্পানির শেয়ার স্থায়ীভাবেই ডেঞ্জারজোনের অধিবাসী। আর পিই রেশিও ৬০ পয়েন্টের ওপরে রয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ২০টি। এই দুই মিলে বর্তমানে পুঁজিবাজারে ডেঞ্জারজোনের অধিবাসীর সংখ্যা ৫৫টি।

বর্তমানে সর্বোচ্চ পিই রেশিওর শেয়ার হলো মুন্নু স্ট্যাপলার। এর পিই রেশিও ১৩৩২.১১। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে একই গ্রুপের কোম্পানি মুন্নু সিরামিকের শেয়ার। এর পিই রেশিও ৯৯১.৮২ পয়েন্ট। আর রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেবলস পিই রেশিও ৭৬৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

এছাড়া, অস্বাভাবিক পিই রেশিওর শেয়ারের মধ্যে রয়েছে: ফ্যামিলি টেক্সের ৩৪৮.৫৩, আজিজ পাইপসের ২৮৪.৫৫, রেনউইক যঞ্জেশ্বরের ১৯৭.৫৪, মডার্ন ডাইং ১৯১.৭৩, ফাইন ফুডস ১৮৩.৩৩, এমারেন্ড ওয়েলের ১৪৫, সোনালী আঁশের ১৩৭.০৮, এ্যাম্বি ফার্মার ১২৭.৯৫, বিডি ল্যাম্প ১২১.৮৬, লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ১১৮.১৮, বিডি অটোকারসের ১১১.২৬, লিবরা ফার্মা ১১০.৩৭, ডেসকো ১০৩.৪১, অ্যাপেক্স ফুডের ৯২.৩১, জেনিমি সি ফুড ৮১.১৯, নর্দার্ন জুটের ৭৮.৮৩ ও আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং ৭৭.০২।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহশেষে লিগ্যাছি ফুটওয়ার, মেঘনা সিমেন্ট ও ইনটেক অনলাইন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে।তবে ডেসকো, লিবরা ও জেমিনি সি ফুড ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমানে লোকসানি কোম্পানির সংখ্যা ৩৫টি। এগুলো হলো-অলটেক্স, অ্যারামিট সিমেন্ট, এটলাস বাংলাদেশ, বঙ্গজ, বিডি সার্ভিস, বিডি ওয়েল্ডিং, বিচ হ্যাচারী, বিআইএফসি ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সিভিও পেট্রো, ঢাকা ডাইং, দুলামিয়া কটন, ফা্রইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস্ট ফাইন্যান্স, গোল্ডেন সন, হাক্কানি পাল্প, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইমাম বাটন, আইএসএন, জুট স্পিনার্স, খুলনা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, মেঘনাপেট, মেট্রো স্পিনিং, ন্যাশনাল টিউবস, প্রাইম ফাইন্যান্স, রহিমা ফুড, সমতা লেদার, সু্রিদ ইন্ডাষ্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, শ্যামপুর সুগার, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, তাল্লু স্পিনিং, ইউনিয়ন কেপিট্যাল, উসমানিয়া গ্লাস ও ঝিলবাংলা সুগার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহশেষে বিডি থাই এ্যালুমিনিয়াম ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের তালিকা থেকে (নেগেটিভ ইপিএস) বেরিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, এ সপ্তাহে বিচ হ্যাচারী, ফাস্ট ফাইন্যান্স ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় (নেগেটিভ ইপিএস) অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।



শেয়ারবার্তা/ মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে