ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

শেয়ারবাজারের ৭ কোম্পানির পাহাড়সম ব্যাংকঋণ

২০১৭ অক্টোবর ২৪ ০০:৩৪:০৪
শেয়ারবাজারের ৭ কোম্পানির পাহাড়সম ব্যাংকঋণ

শেয়ারবার্তা রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৭ প্রতিষ্ঠান পাহাড়সম ব্যাংক ঋণে জর্জরিত। কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর এর বিপরীতে ঋণের পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় কোম্পানিগুলোর গড় ঋণ প্রায় চারগুণ। অ্যাকাউন্টিং মানদণ্ডে একে বলা হয় ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিভারেজ’। অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের কোম্পানি। ঝুঁকিতে থাকা ৭ কোম্কপানি হলো-ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, ওরিয়ন ফার্মা, ডরিন পাওয়ার, বিএসআরএম স্টিল, এমআই সিমেন্ট, প্রিমিয়াম সিমেন্ট
ও ডেসকো।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, আলোচ্য সাত প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মোট ঋণ পাঁচ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিগুলো পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় প্রায় চারগুণ ঋণ বয়ে বেড়াচ্ছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, ঋণগ্রস্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি ডরিন পাওয়ার। এ প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৯৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৬২১ কোটি টাকা, যা পরিশোধিত মূলধনের সাড়ে ছয়গুণ।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে সিমেন্ট খাতের প্রিমিয়ার সিমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি টাকা। অথচ এ কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ৫৬৬ কোটি টাকা, যা মূলধনের তুলনায় সাড়ে পাঁচগুণ।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাতের চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম স্টিলে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় মিলে ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ২১৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচগুণ।

শীর্ষ ঋণ খেলাপির তিলক পরা ওয়েস্টার্ন মেরিন পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একক ঋণের পরিমাণ ৬৬৮ কোটি টাকা। এ ঋণ পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় সাড়ে চারগুণ। এর পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষ ঋণ খেলাপির তালিকাভুক্ত হয়ে ইতোমধ্যে বহুলভাবে বিতর্কিত কোম্পানির শিরোপা ধারণ করে আছে।

দেশের বিতর্কিত আরেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ফার্মার ব্যাংকঋণের পরিমাণ ৫৭৫ কোটি টাকা। তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ২৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির ঋণঝুঁকি রয়েছে আড়াই গুণ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান ডেসকোর ব্যাংকঋণ রয়েছে এক হাজার ৫৩ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ আড়াই গুণের বেশি।

সপ্তম অবস্থানে রয়েছে সিমেন্ট খাতের কোম্পানি এমআই সিমেন্ট। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনও ১৪৮ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ ৫১৮ কোটি টাকা। এটি ঋণ ঝুঁকির একটি অন্যতম কোম্পানি।

জানা যায়, কোম্পানিগুলোর ব্যাংক ঋণ অত্যধিক হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছরই বিশাল অংকের অর্থ সুদ বাবদ গুনতে হয়। ফলে কোম্পানগুলোকে প্রতিবছর লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপে থাকতে হয়।



শেয়ারবার্তা / মামুন

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে