ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজারের ২০ কোম্পানির শেয়ার

২০১৭ অক্টোবর ০৭ ১৬:৩৩:৫৯
নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজারের ২০ কোম্পানির শেয়ার

শেয়ারবার্তা রিপোর্ট: সাম্প্রতিকালে অব্যাহাত উত্থানে রেকর্ড দর অতিক্রম করেছে শেয়ারবাজার তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এসময় টানা উত্থানে অতিমূল্যায়িত্ব হয়েছে অনেক কোম্পানির শেয়ার। কিন্তু অব্যাহত উত্থানেও শেয়ারবাজারে অবমূল্যায়িত্ব হচ্ছে বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বিবেচনা করে কোম্পানিটির শেয়ার দরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। তাঁদের মতে, যে কোম্পানির পিই রেশিও যত বেশি, সে কোম্পানি তত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যদি পিই রেশিও নেগেটিভ হয় তবে এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করাই শ্রেয়। কিন্তু যে সকল কোম্পানির পিই রেশিও মার্কেট পিই রেশিওর তুলনায় কম, সেসকল কোম্পানিতে বিনিয়োগ উত্তম।। আর পিই ২৫-এর নিচে থাকা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ খুবই উত্তম বলে মনে করা হয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, টানা উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বর্তমান মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়ে ১৬.৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ডিসেম্বর ক্লোজিং ব্যাংক, লিজিং, বীম ও মিচ্যুয়াল খাত বাদে জুন ক্লোজিংয়ের ১৬ খাতের কোম্পানির ২০ শেয়ার রয়েছে যেগুলোর পিই ১৫-এর নিচে এবং বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ।

শেয়ারবাজারের সর্ববৃহত বস্ত্র খাতের ৪৮ কোম্পানির মধ্যে পিই ১৫-এর নিচে রয়েছে ৮টি কোম্পানি। এগুলো হলো-মোজাফ্ফর হোসেন স্পিনিংয়ের পিই ৯.৪০, আরগন ডেনিমের পিই ১১.৩১, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের (পিডিএল) পিই ১১.৩৩, ড্রাগন স্যুয়েটারের পিই ১২.৪৮, ফারইস্ট নিটিংয়ের পিই ১২.৭৮, সিম টেক্স-পিই ১৩.০৪, শাশা ডেনিমের পিই ১৩.৩৬, সিএমসি কামালের পিই ১৪.২০ এবং ইভিন্স টেক্সটাইলের (ইটিএল) ১৪.৬৯। এর মধ্যে আরগন ডেনিম ও ইটিএল ইতোমধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে কোম্পানি দুটির রেকর্ড ডেট সামনে রয়েছে বিধায় লভ্যাংশ এখনো এ্যাডজাস্ট হয়নি।

শেয়ারবাজারের তৃতীয় বৃহত্তম খাত প্রকৌশল খাতের ৩৪ কোম্পানির মধ্যে পিই ১৫ এর নিচে রয়েছে ৪টি কোম্পানি। এগুলো হলো-আরএসআরএম স্টিলের পিই ৮.১৮, বিএসআরএম স্টিলের্ পিই ৯.৬৮, এ্যাপেলো ইস্পাতের পিই ১১.১৩, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ারর্ডের পিই ১৩,৭৪। এগুলোর মধ্যে আরএসআরএম স্টিল, বিএসআরএম স্টিল এবং ওয়েস্টার্ন শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ এ্যাডজাস্টও হয়ে গেছে। কেবল এ্যাপেলো ইস্পাত এখনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

রসায়ন ও ফার্মা খাতের ২৮টি কোম্পানির মধ্যে পিই ১৫ এর নিচে রয়েছে ৪টি কোম্পানি। এগুলো হলো- কেয়া কসমেটিকসের পিই ৭,০৫, ফার কেমিক্যালের পিই ১০.৭৪, ওরিয়ন ফার্মার পিই ১১.৯৭ এবং একটিভ ফাইনের ১৩.৩৮।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৮ কোম্পানির মধ্যে পিই ১৫ এর নিচে রয়েছে ৬টি কোম্পানি। এগুলো হলো- যমুনা ওয়েল ৯.৯২, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ১০.৫০, তিতাস গ্যাস ১০.৬৫, বারাকা পাওয়ার ১২.৬৯, পদ্মা ওয়েল ১২.৯৬, ইউনাইটেড পাওয়ার ১৪.৩১।

এছাড়া, সেবা ও আবাসন খাতের সাইফ পাওয়ারের পিই ৭.২৭, সিমেন্ট খাতের কনফিডেন্স সিমেন্টের পিই ১৪.৪৯ এবং বিবিধ খাতের আমান ফিডের পিই ১৪.৪৮।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, যেসব কোম্পানির পিই রেশিও ৪০-এর নিচে এমন কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ উপযোগী বলে ধরে নেয়া হয়। তবে, যে সকল কোম্পানির পিই রেশিও ১৫-এর নিচে, সেসব কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের জন্য খুব উত্তম মনে করা হয়। আর পিই ১০-এর নিচে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বলা মনে করা হয়। তিনি বলেন, কোম্পানির পিই বিনিয়োগের জন্য সব সময়েই বিবেচনা করা হয়। তবে লভ্যাংশ ঘোষণার আগে বেশি মাত্রায় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।


শেয়ারবার্তা রিপোর্ট / এস

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে