ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৯ কার্তিক ১৪২৬

প্রত্যাহার হচ্ছে কাশেম গ্রুপের বিরুদ্ধে ৫ সার্টিফিকেট মামলা

২০১৭ জুলাই ২৪ ০৪:১৭:৪৩
প্রত্যাহার হচ্ছে কাশেম গ্রুপের বিরুদ্ধে ৫ সার্টিফিকেট মামলা


পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে তালিকাভুক্ত কাশেম সিল্ক মিলসের তিনটি ও কাশেম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে দুটি সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারে ইতোমধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি)। এর আগে কমিশনের ৫৯৭তম সভায় কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (আইন) মো. মাহবুবের রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে গত ১৭ জুলাই ইস্যু করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোম্পানির পরিচালকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মূল জরিমানার অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে আরোপিত অতিরিক্ত জরিমানা মওকুফ করা ও এ-সংক্রান্ত সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহারের করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তদপ্রেক্ষিতে পাঁচটি সার্টিফিকেট মামলার বিবাদীরা মূল জরিমানা ১৫ লাখ টাকা কমিশনে জমা দেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার বরাবর পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় কোম্পানি দুটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সার্টিফিকেট মামলা নং ১৭৪/২০১০ (বিএসইসি বনাম কাশেম সিল্ক মিলস), ১৭২/২০১১০ (বিএসইসি বনাম কাশেম টেক্সটাইল), ৫৬/২০১০ (বিএসইসি বনাম কাশেম সিল্ক মিলস), ৫৭/২০১০ (বিএসইসি বনাম কাশেম টেক্সটাইল মিলস) ও ২৭৯/২০১৩ (বিএসইসি বনাম কাশেম সিল্ক মিলস) প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, কাশেম সিল্ক মিলস বোর্ড পুনর্গঠনে ব্যর্থতার কারণে কমিশন তিন লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করে। উক্ত টাকা পরিশোধে কোম্পানিট ব্যর্থ হলে বিএসইসি সার্টিফিকেট মামলা নং ৫৬/২০১০ দায়ের করে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সময়মতো বার্ষিক সাধারণ সভা না করার কারণে কাশেম সিল্ক মিলসকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসির কমিশন। যথাসময়ে জরিমানা পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি। এর ফলে বিএসইসি সার্টিফিকেট মামলা নং ১৭৪/২০১০ দায়ের করে।

কাশেম সিল্ক মিলস মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতার কারণে ২০০৭ সালের ১১ জুলাই তিন লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন। জরিমানার এ টাকাও যথাসময়ে পরিশোধে বর্থ্য হওয়ার কারণে সার্টিফিকেট মামলা নং-২৭৯/২০১৩ দায়ের করে বিএসইসি।

এদিকে কাশেম টেক্সটাইল মিলস বোর্ড পুনর্গঠনে ব্যর্থতার কারণে কমিশন তিল লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করে। ওই টাকা পরিশোধে কোম্পানিট ব্যর্থ হলে বিএসইসি সার্টিফিকেট মামলা নং ১৭২/২০১০ দায়ের করে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি বোর্ড পুনর্গঠনে ব্যর্থতার কারণে কমিশন তিল লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করে। ওই টাকা পরিশোধে কোম্পানিট ব্যর্থ হলে সার্টিফিকেট মামলা নং ৫৭/২০১০ দায়ের করে বিএসইসি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, কাশেম সিল্ক মিলস ১৯৪৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ওটিসির এ কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। বাকি ৫০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে একই গ্রুপের কাশেম টেক্সটাইল মিলস ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ওটিসি মার্কেটে কোম্পানিটির লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটির ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। বাকি ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে