ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫

পাইপলাইনে সাত কোম্পানির রাইট শেয়ার

২০১৭ জুলাই ২১ ২০:৩১:৩৯
পাইপলাইনে সাত কোম্পানির রাইট শেয়ার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণ, মূলধন বাড়ানোসহ বিভিন্ন কাজে অর্থ সংগ্রহের জন্য রাইট শেয়ার ইস্যু করতে চায়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রাইট শেয়ার ইস্যুর জন্য বিএসইসিতে আবেদন করেছে। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান রাইট ইস্যুর বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সাতটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এবি ব্যাংক লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড, সিএমসি কামাল, জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ, ইফাদ অটোস ও জাহিন স্পিনিং। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে এই সাত প্রতিষ্ঠানের রাইট শেয়ার ইস্যুর খবরে এগুলোর শেয়ারের দর এখন ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। রাইট শেয়ার ক্রয় করে লাভবান হবেন এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডাররা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পাইপলাইনে থাকা সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিয়ে ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করেছে পাঁচ কোম্পানি। অন্য দুই কোম্পানি জাহিন স্পিনিং এবং ইফাদ অটোস রাইট ইস্যুর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ, মূলধন বাড়ানো এবং অন্যান্য কাজে ব্যয় করবে।

বর্তমানে বিএসইসি আবেদন জমা থাকা সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড ১: ২ অর্থাৎ দুটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট ছাড়তে চায়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে দুই টাকা ৫০ পয়সা প্রিমিয়াম মিলে সাড়ে ১২ টাকায় রাইট শেয়ার কিনতে পারবেন শেয়ারহোল্ডাররা। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকা আর পরিশোধিত মূলধন ৯১৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ৫৭৩ কোটি টাকার রাইটের অনুমতি পেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন হবে এক হাজার ৩৭৫ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এবি ব্যাংক লিমিটেড পাঁচটি শেয়ারের বিপরীতে চারটি রাইট শেয়ার ছাড়ার আবেদন করেছে। ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সঙ্গে ২.৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ সাড়ে ১২ টাকা দরে রাইট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আর্থিক খাতের কোম্পানি লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড দুটি শেয়ারের বিপরীতে একটি হিসেবে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৫টি শেয়ার ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এতে কোম্পানির মূল শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তাই অনুপাত ঠিক রাখতে রাইটে শেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে হচ্ছে। কোম্পানিটি এখন ১৫ কোটি ৯১ লাখ ২৫ হাজার ৪৭০টি শেয়ার ইস্যু করবে। অন্য প্রতিষ্ঠান জিকিউ বলপেন ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে দুটি শেয়ারের বিপরীতে তিনটি রাইট শেয়ার ইস্যুর জন্য আবেদন করেছে কোম্পানিটি। একইভাবে বস্ত্র খাতের সিএমসি কামাল ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে রাইট ছাড়াতে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইফাদ অটোস। জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানটি ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২০ টাকা মূল্যে প্রতিটি রাইট শেয়ার ছাড়বে। প্রতি পাঁচটি শেয়ারের বিপরীতে দুটি করে রাইট শেয়ার ছাড়বে কোম্পানিটি। সূত্র জানিয়েছে, রাইট শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ জুলাই বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করেছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে বস্ত্র খাতের জাহিন স্পিনিং মিল ১: ১ অর্থাৎ একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে আট কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলতে চায় তারা।

প্রতিষ্ঠানগুলো রাইটের অনুমতি পাবে এমন ধারণা পোষণ করে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ মুখী রয়েছে এসব শেয়ারের দর। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বাজারসংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, রাইট শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। তারা মনে করেন, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ রাইটের ঘোষণা দিলে বা আবেদন করলেই রাইট পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এ জন্যই তারা রাইট শেয়ারের কথা শুনলেই ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে দুবার ভাবেন না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি তা নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান রাইটের আবেদন করলে বিএসইসি ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খুঁটিনাটি সব ধরনের খবর নেয়। কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে বিএসইসি ওই রাইট শেয়ারের আবেদন নাকোচও করতে পারে।

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে