ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫

‘দেশের শিল্পায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে’

২০১৭ জুলাই ১২ ২১:৩৯:১৮
‘দেশের শিল্পায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে’

সপ্তাহের রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শেয়ারবার্তার পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো:

একটি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যক্তি খাত বিকশিত হয়। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। আমাদের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাংকনির্ভর হয়ে পড়েছে। কোম্পানিগুলো চড়া সুদে ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসছে না। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাসহ সরকারও তাদের আনছে না। ফলে পুঁজিবাজার খুবই ছোট পরিসরে রয়ে গেছে। এটি আমাদের অর্থনীতিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। মঙ্গলবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এমডি ও সিইও ওয়াকার এ চৌধুরী এবং আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ।

ওয়াকার এ চৌধুরী বলেন, দেশে যে বিনিয়োগগুলো হচ্ছে, সেক্ষেত্রে আমরা তাকিয়ে আছি বিদেশি বিনিয়োগের দিকে। আমাদের এখন দরকার ক্যাপিটাল মার্কেটকে আরও শক্তিশালী করা। ক্যাপিটাল মার্কেট দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হওয়া উচিত, কমার্শিয়াল ব্যাংকিং নয়। এজন্য আমাদের পুনর্গঠন করা উচিত। নতুন নতুন প্রডাক্ট আনা উচিত। ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা দরকার। বাজারে ভালো কোম্পানির অভাব রয়েছে। আর ভালো কোম্পানি না থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে না। বাজার তার সম্ভাবনাময় স্থানে পৌঁছতে পারবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সুশাসনের অভাব রয়েছে। আইন থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূলধন জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ১৬ শতাংশ, যা পাশের দেশ ভারতেও ৬৫ শতাংশ। লক্ষ করলে দেখবেন, একটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে সেদেশের পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের শিল্পায়নের জন্যই পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে। সেদিক বিবেচনায় দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেট তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সে কারণে দেশের অর্থনীতি ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কাজেই এ বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আনা দরকার বলে মনে করি।

পুঁজিবাজারকে সম্প্রসারিত ও দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এতে দেশের বেকারত্ব সমস্যাও কিছুটা দূর হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার বা পলিসি মেকাররা পলিসি সংশোধন করবে, যাতে ব্যক্তি মালিকানা খাত থেকে বিনিয়োগ আসে। যে কারণে এখনই পুঁজিবাজার সংস্কার হওয়া দরকার।

জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ক্যাপিটাল মার্কেটের কোনো ভূমিকাই নেই। তাছাড়া দেশে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের তেমন কোনো জায়গাও নেই। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য পুঁজিবাজারই একমাত্র বিনিয়োগের স্থান বলা চলে। অন্যদিকে দেশের পুঁজিবাজারও তেমন শক্তিশালী নয়। আর বাজার শক্তিশালী করতে হলে বন্ড মার্কেট, ইকুইটি মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রডাক্ট আনতে হবে। এতে পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রসারিত বাজার গড়ে তোলার জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। নীতিনির্ধারক মহল থেকে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্পাদনায়ঃ ফারজানা, শেয়ারবার্তা

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে