ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

পুঁজিবাজার বান্ধব মুদ্রানীতি আসছে

২০১৭ জুলাই ১২ ০৭:৫৮:৩৩
পুঁজিবাজার বান্ধব মুদ্রানীতি আসছে

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে পুঁজিবাজারে চলছে আলোচনা। এবারের মুদ্রানীতি ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারের লাগাম টেনে ধরবে না তো? এ ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মনে। তবে সে ধরনের শঙ্কা নেই বললেই চলে। আগামী মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতাকে গুরুত্বারোপ করা হবে। বাজার পতনের দায় নিতে যাবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ভ্যাট আইন স্থগিত করার কারণে বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি থাকবে। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির বেশিরভাগ মেটানো হবে ব্যাংকঋণ ও সঞ্চয়পত্র থেকে। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ। তারপরও সার্বিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। সরকারের শেষ সময়ে পুঁজিবাজার যাতে গতিশীল থাকে, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হবে মুদ্রানীতিতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পুঁজিবাজার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকুক, তা চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই নতুন মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা হবে।

এর আগে গত মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর পুঁজিবাজারে নজরদারি বাড়ানো দরকার এবং ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির কথা বলেছিল। এর পর থেকেই বাজারে পতন শুরু হয়। তবে এবার পুঁজিবাজার নিয়ে বক্তব্যে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে জানা গেছে।

আসন্ন মুদ্রানীতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যে মুদ্রানীতি আসছে, তা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জই হবে। বর্তমানে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় নেতিবাচক ধারায় থাকায় চ্যালেঞ্জটা বেশিই হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। এছাড়া যে হারে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল, সে হারে হচ্ছে না। তাই কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্স ও রফতানির এক বিশেষ কারণ এক্সচেঞ্জ রেট খুবই শক্তশালী। এ বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। অর্থাৎ এক্সচেঞ্জ রেট সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর দেওয়ারও পরামর্শ দেন সাবেক এ গভর্নর।

এদিকে চালের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সামনের মুদ্রানীতিতে তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে। যাতে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে।

গত অর্থবছরে মূলধনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত উৎপাদন দৃশ্যমান হয়নি। তাই উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দেওয়া হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ঘোষণা থাকবে মুদ্রানীতিতে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে।

এদিকে মুদ্রানীতি উদ্দেশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে আসা পরামর্শের আলোকে তৈরি করা হবে নতুন মুদ্রানীতি। সব কিছু ঠিক থাকলে ২৩ জুলাই প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির গত ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধের নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন বিষয়ে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপকদের নিয়ে বৈঠক করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছ থেকে নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।

মুদ্রানীতি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেন, বিনিয়োগবান্ধব, প্রবৃদ্ধি সহায়ক মুদ্রানীতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগের ওপর জোর দিতে হবে। কারণ সরকারি খাতে বিনিয়োগ হলেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এটা বাড়াতে হবে। এছাড়া ব্যাংক খাতে যে তারল্য রয়েছে বিনিয়োগ পরিস্থিতি যদি চাঙা করা না যায়, তাহলে তা অলস পড়ে থাকবে।

সুদহার সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া উচিত। কারণ সঞ্চয়পত্রের সুদহার ও বাজারের সুদহারের পার্থক্য অনেক। তা কমানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জ রেট বিষয়েও মুদ্রানীতিতে নির্দেশনা থাকা দরকার বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।

উল্লেখ্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিবছর দুবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। ছয় মাস অন্তর এ মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাইয়ে অপরটি জানুয়ারিতে।

শেয়ারবার্তা/ফারজানা

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে