ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৫২ শতাংশসিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৫২ শতাংশ

২০১৯ অক্টোবর ০৫ ১১:৫৪:৩৯
সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৫২ শতাংশসিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৫২ শতাংশ

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, আলোচিত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে। প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানটির গড় লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকার ইউনিট। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১০ কোটি ৮২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে ফান্ডটির ইউনিটদর ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ বা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১০ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১০ টাকা ৬০ পয়সা। ওইদিন ২৩ লাখ ৫১ হাজার ২৫৪টি ইউনিট মোট ৭০৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৪৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। দিনভর ইউনিট দর সর্বনিম্ন ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে ইউনিট দর ছয় টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করে।

মিউচুয়াল ফান্ডটি ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ৬৬ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ফান্ডটির মোট ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, ফান্ডটির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৭৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ছয় দশমিক ৬৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১০ দশমিক ৮২।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান। মিউচুয়াল ফান্ডটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ৫৩ লাখ ৪২ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ৬৭ লাখ ১৩ হাজার টাকার শেয়ার।


এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে ফান্ডটির ইউনিটদর ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১০ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১০ টাকা। ওইদিন ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৩টি ইউনিট মোট ২১০ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৬৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। দিনভর ইউনিট দর সর্বনিম্ন ৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে ইউনিট দর ছয় টাকা থেকে ১১ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে।
মিউচুয়াল ফান্ডটি ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি ১০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে মিউচুয়াল ফান্ডটি বিনিয়োগকারীদের সাত শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। আলোচিত সময়ে ইউনিটপ্রতি আয় হয়েছে ৭৭ পয়সা আর ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১০ টাকা ৩৩ পয়সা, যা তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ২১ পয়সা ও ১০ টাকা ২১ পয়সা। ২০১৮ সালে মোট মুনাফা করে তিন কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

ফান্ডটির মোট পাঁচ কোটি এক লাখ ৩১ হাজার শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, ফান্ডটির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ১৯ দশমকি ৯৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৬৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১২ দশমিক ৯৯ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৭ দশমিক ৫৪।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ছয় কোটি আট লাখ ৪৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার শেয়ার।


এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর সাত দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ৪৯ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৭০৭ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৭০৭ টাকা ৪০ পয়সা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৬৬৯ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০৭ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়। ওইদিন ৯৭ হাজার ২৮টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৩৮১ বার হাতবদল হয়। যার বাজার দর ছয় কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর ১২৯ টাকা থেকে ৭০৭ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি দুই শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৫৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৪ টাকা ৯৬ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি এক লাখ ৯০ হাজার টাকা।


এর আগে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ছয় পয়সা এবং এনএভি ১৪ টাকা ৯০ পয়সা। এটি তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৫০ পয়সা ও ১৪ টাকা ৩৬ পয়সা।
কোম্পানিটি ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ছয় কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৫০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য মতে মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড ও ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড। মিউচুয়াল ফান্ড দুটির শেয়ারদর বেড়েছে যথাক্রমে ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ ও ২০ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলো হলো ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, ইনটেক লিমিটেড এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড ও প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড।

শেয়ারবার্তা / মিলন

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে