ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬

বিএসইসির ব্যাখ্যায় জেড ক্যাটাগারির শেয়ারে পোয়াবারো

২০১৯ অক্টোবর ০৪ ১১:৫৩:০২
বিএসইসির ব্যাখ্যায় জেড ক্যাটাগারির শেয়ারে পোয়াবারো

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ছিল পোয়াবারো অবস্থা। অনেকগুলো সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। আরও দর বাড়বে- এমন আশায় এসব শেয়ার যাদের হাতে রয়েছে, তারা তা বিক্রি করতে চাননি। ফলে বুধবারের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি দর অফার করেও শেয়ার পাননি অনেকে।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি গত বুধবার বছরের পর বছর লোকসানে থাকা কোম্পানি পুঞ্জীভূত লোকসানের পরও কোনো এক বছরে মুনাফা করলে তা থেকে লভ্যাংশ দিতে পারবে বলে স্পষ্ট করে এ নির্দেশনা দেয়। এটি বৃহস্পতিবার বাজারের ধারা ঠিক করে দিয়েছে। বাজার সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে যেগুলো পাঁচ বছর বা এর বেশি সময় লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ, সেগুলোকে তালিকাচ্যুতি থেকে রক্ষার সুযোগ দিল বিএসইসি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জেড ক্যাটাগরির ৪২ কোম্পানির মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৮টিরই বাজারদর বেড়েছে, কমেছে মাত্র সাতটির দর। বাকি সাতটির দর অপরিবর্তিত থেকেছে। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ২১ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়, যেগুলোর মধ্যে ১৯টিই ছিল জেড গ্রুপের বা অপেক্ষাকৃত রুগ্‌ণ কোম্পানি।

কোম্পানিগুলো হলো বিআইএফসি, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, ইনটেক অনলাইন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক্ক, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, তাল্লু স্পিনিং, তুংহাই নিটিং, অলটেক্স, ঢাকা ডাইং, ফাস্ট ফাইন্যান্স, গোল্ডেন সন, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও ঝিলবাংলা সুগার মিলস। এর মধ্যে প্রথম আটটির বাজারদর লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে স্থির ছিল। এসব শেয়ারের বাইরে বৃহস্পতিবার কপারটেক, সিলভা ফার্মা ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের শেয়ারও সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে।

দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারের দরবৃদ্ধির দিনে বৃহস্পতিবার ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। তবে উৎপাদন ও সেবামুখী অন্য সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের বাজারদর বেড়েছে। সংখ্যার বিচারে দর হারানোর শেয়ারের তুলনায় দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যাও বেশি ছিল। কিন্তু বাজার মূল্য সূচকে এর প্রভাব ছিল না। মাত্র দেড় পয়েন্ট বেড়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৯৩৭ পয়েন্টে উঠেছে। এর প্রধান কারণ আর্থিক খাতের পাশাপাশি বৃহৎ মূলধনি কিছু শেয়ারের দরপতন। এর মধ্যেও বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চারটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরেও কেনাবেচা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৩৫৪ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫০টির দর। দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে ৩২৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ২৫৭টি শেয়ার। এর মধ্যে ১২২টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৮টির। বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়লেও এ বাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স প্রায় ১৪ পয়েন্ট থেকে ৯১২৩ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার।

শেয়ারবার্তা / হামিদ

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে