ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

অব্যাহত দরপতনে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট চরমে

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২০ ১১:৪৩:২৮
অব্যাহত দরপতনে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট চরমে

অব্যাহত দরপতনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে কারণে কোনোভাবেই এই পতন রোধ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের এমন দশা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এজন্য তারা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাকেই দায়ী করেন।

আস্থাহীনতা চরমে উঠায় বাজার তার স্বরূপে ফিরতে পারছে না। বৃহস্পতিবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এদিন পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় মূলধনি কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ারদর বৃদ্ধির চমক দেখালেও তা সূচকের পতন রোধ করতে পারেনি।

সরকারের দাবি করা গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা টাকা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব আদালত নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদরে বড় উত্থান হয়েছে। তবে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেলেও তা পুঁজিবাজারের পতন ঠেকাতে পারেনি। দিন শেষে আগের কার্যদিবসের চেয়ে আরও অবনতি হয়েছে সূচকের। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।

ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ বাজার মূলধন গ্রামীণফোনের। এ প্রতিষ্ঠানটি মোট বাজার মূলধনের প্রায় ১৫ শতাংশ দখল করে রেখেছে। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর হ্রাস-বৃদ্ধি সূচকে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি কোম্পানিটির নেতিবাচক খবরে এর শেয়ারদর কমতে শুরু করে। এ প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে টানাপড়েন চলছে। এর জেরে কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এদিকে বিটিআরসির বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা মামলা করে গ্রামীণফোন, যার প্রভাবে গ্রামীণফোনের শেয়ারদর কমে যায়। কিন্তু সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে যাচ্ছে না। সে কারণে বৃহস্পতিবার এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর প্রায় ৯ শতাংশ বা ২৭ টাকা বেড়ে দিন শেষে লেনদেন হয় ৩৩৫ টাকায়। এদিন প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধনে যোগ হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। তবে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩২ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৮৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিকে গ্রামীণফোনের শেয়ারের উল্লেখযোগ্য হারে দর বাড়লেও পতন ঠেকাতে না পারার জন্য তালিকাভুক্ত অন্য সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের গণহারে দর কমাকে দায়ী করেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার ওষুধ ও রসায়ন ছাড়া অন্য কোনো খাতের শেয়ার ও ইউনিটের দর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে দেখা যায়নি। দর কমেছে লেনদেন হওয়া ৭৫ শতাংশ শেয়ার ও ইউনিটের। যে কারণে গ্রামীণফোনের শেয়ারদর বৃদ্ধির পর ইতিবাচক অবস্থানে থাকতে পারেনি সূচক। তবে কোম্পানিটি সূচকের বড় ধরনের পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। কারণ, ২৭ টাকা দর বৃদ্ধি না পেয়ে এর উল্টো হলে সূচকের পতন আরও বড় হতো।

জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, গ্রামীণফোন বাজারের সবচেয়ে বড় কোম্পানি। এর বাজার মূলধনও বেশি। এ শেয়ারের দর কমলে সূচকে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আবার দর বাড়লে সেটাও সূচক বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। বৃহস্পতিবার যদি এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ার বদলে কমে যেত, তাহলে পতন আরও বড় হতে পারত।

একই প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে এখন যে পরিস্থিতি চলছে, এ পরিস্থিতি থাকার কথা নয়। এ কথা সত্যি যে, পুঁজিবাজারে অর্থ ও ভালো শেয়ারের অভাব রয়েছে। তবে বাজারের এ পরিস্থিতির জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাও দায়ী। তারা অল্পতে হতাশ হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে মনে হয় না। যা পুঁজিবাজারের জন্য নেতিবাচক।

অন্যদিকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করলে বিনিয়োগকারীরা জানান, প্রতিনিয়ত তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তাদের মতে, এ বাজার নিয়ে আসলে একটি চক্র খেলা করছে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারে রক্তক্ষরণ চলছে। এতে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বড় প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। সবকিছুর দায় বহন করতে হচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের।

প্রসঙ্গত, অব্যাহত পতনের জেরে চলতি বছর ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৫৩০ পয়েন্ট। ৫৩৮ কোটি টাকা থেকে লেনদেন নেমে এসেছে ৩৮৪ কোটি টাকায়। একইভাবে এ সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বাজার মূলধন, যার পরিমাণ ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

শেয়ারবার্তা / হামিদ

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে