ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

কয়েকটি বড় ব্রোকারেজ হাউস থেকে শেয়ার বিক্রি বেড়েছে

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২০ ১১:৩২:০৪
কয়েকটি বড় ব্রোকারেজ হাউস থেকে শেয়ার বিক্রি বেড়েছে

বকেয়া আদায় নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে গ্রামীণফোনের দ্বন্দ্বে পুঁজিবাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া আদায়ের জটিলতার সমাধানের কথা বলায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের শেয়ার দরে ব্যাপক উত্থান ঘটে। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখিতা বজায় থাকে কিন্তু এই সময়ের পরই বাড়ে শেয়ার বিক্রির চাপ। এতে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যসূচক হঠাৎ নিচে নেমে যায়। আর এই নেমে যাওয়াকে সন্দেহের চোখে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি বড় বড় ব্রোকারেজ হাউস থেকে হঠাৎ বিক্রির চাপ বেড়ে গেছে। এটা স্বাভাবিক কোনো বিক্রি নয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটা গোষ্ঠী অতৎপরতা চালাচ্ছে। কারা বাজার নিয়ে খেলছে, সেটা খতিয়ে দেখছে কমিশন। সার্ভেইল্যান্স বিভাগে আরো নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতন নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত কমিটি কারসাজির বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছে। ১২টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে সংঘবদ্ধ ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগ, যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে আইন সংস্কার ও স্বচ্ছতা বাড়ানো, গ্রামীণফোন ইস্যুর সমাধান ও বাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর আশাবাদের পরও উল্টো আচরণে হতাশ তাঁরা। পুঁজিবাজার কেন এমন আচরণ করছে, সেই কারণ খুঁজছে সবাই। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পুঁজিবাজারের এই পতন স্বাভাবিক নয়, একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী বাজারকে প্রভাবিত করছে। স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে গত সোমবার বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পুঁজিবাজার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার পর নানামুখী আশ্বাস দেওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকেও করহার কমানো নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। তার পরও বাজারে কোনো উন্নতি নেই। ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড সার্ভিসেসের এমডি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, ‘স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে নানা আশ্বাস দেওয়া হয়, আশা করেছিলাম বাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে; কিন্তু সেটা না হলে উল্টো বিক্রি বাড়ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘বড় উত্থানের বাজারে হঠাৎ শেয়ার বিক্রি বেড়ে যাওয়া সবার মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েকটি বড় ব্রোকারেজ হাউস থেকে শেয়ার বিক্রি বেড়েছে। হঠাৎ তারা কেন শেয়ার বিক্রি করল, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বিটিআরসির সঙ্গে গ্রামীণফোনের বকেয়া আদায় নিয়ে জটিলতা কাটলে কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে ব্যাপক চাপ লক্ষ করা যায়। বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম ২৬.৯ টাকা বা ৮.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে পতন ঘটেছে। শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি থাকায় সূচক কমেছে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দামও কমেছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, আর সূচক কমেছে ৩২ পয়েন্ট।

শেয়ারবার্তা / আনিস

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে