ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

দেশের বীমার প্রিমিয়াম বিদেশে যাবে না-অর্থমন্ত্রী

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১২ ১২:১৭:৩০
দেশের বীমার প্রিমিয়াম বিদেশে যাবে না-অর্থমন্ত্রী

বীমা দাবী পূরণ করতে পারবে না দেশী কোম্পানিগুলো, এমন অযুহাতে বিদেশী কোম্পারি সাথে পুন:বীমা করতে হতো। এখন থেকে আর এটি করা যাবে না। দেশের টাকা দেশেই রাখতে হবে। কারণ আমাদেরে দেশের কোম্পানিগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হয়েছে। দাবী পরিশোধ করার মতো সেই সক্ষমতা দেশী কোম্পানিগুলোর হয়েছে।

বৃধবারদুপুরে সরকারী কোষাগারে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের ২০১৮ সালের লভ্যাংশের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারী মেগা প্রকল্প পদ্মাসেতু, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ি পাওয়ার প্ল্যান্ট, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ইত্যাদির বীমা কভারেজ দিয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য যে বড় বড় আমদানী হতো তার জন্য বীমা করা লাগতো। এই বীমাগুলো এক সময় দেশী কোম্পানিগুলোর কাভারেজ দেওয়ার ক্ষমতা ছিলো না। এর ফলে বিদেশী কোম্পানিগুলোর সাথে কাজ করতে হতো। এর মাধ্যমে অনেক টাকা বিদেশে চলে যেত। এখ আমাদেরে দেশী কোম্পানিগুলো অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তৈরি হয়েছে তাদের সক্ষমতা।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এখন অভ্যান্তরীন কোম্পানির মাধ্যমে বীমা করতে হবে। আমাদের দেশের বীমার প্রিমিয়াম দেশে থাকলে দেশীয় কোম্পানিগুলোর রেভিনিউ এমনিতেই বেড়ে যাবে। প্রকল্পের আওতায় বিদেশ থেকে মেশিনারিজ আসতো আবার বীমার প্রিমিয়াম চলে যেতো। এখন থেকে এগুলো বিদেশে যাবে না। আমার দেশ থেকে যে বীমা হবে, যেটা আমরা পেমেন্ট করবো সেটার প্রিমিয়ামও আমরা পাবো। আমাদের প্রিমিয়াম বাইরের কেউ পাবে না। আমার দেশ থেকে যে বীমা হবে তার প্রিমিয়াম বিদেশে যাবে না।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বীমা সেবা দিয়ে আসছে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন একই সঙ্গে বীমা ও পুন:বীমা কার্যক্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রতি বৎসর সরকারি কোষাগারে নিয়মিত লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এনবিআরকে রাজস্ব দেয়ার পাশাপাশি সরকারের কোষাগারে সরাসরি টাকা দিচ্ছে। মেগা প্রকল্পগুলোকে বীমা কভারেজ প্রদান করেছে, ফলে সরকারি কোষাগারে আরো বেশি টাকা দেবে এই সংস্থাটি।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের জন্য কোম্পানিটি সরকারি কোষাগারে ৫০ কোটি টাকা দিয়েছে। তারা ট্যাক্সও পেমেন্ট করেছে। আগামীতে মুনাফাও ডাবল হবে। যেখানে সাধারণ বীমা মুনাফা পাচ্ছিল না এখন তারা পাবে। আমরা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। সাধারণ বীমার রেভিনিউ বাড়লে পাশাপাশি সেবাও বাড়বে। গ্রাহকেরাও উপকৃত হবে।

সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সরকারী কোষাগারে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের ২০১৮ ইং সালের লভ্যাংশ ৫০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ,কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার আহসান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ারবার্তা / হামিদ

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে