ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

সাত মাসে সূচক কমেছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট

২০১৯ সেপ্টেম্বর ০৮ ০৯:২৮:৫০
সাত মাসে সূচক কমেছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট

পুঁজিবাজারে পতন থামছেই না। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজারে এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ফান্ডের ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ার এবং ইউনিটের দর বিনিয়োগযোগ্য হলেও অব্যাহত রয়েছে দরপতন।

সম্প্রতি বড় পতন বিনিয়োগকারীদের আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে। যে কারণে পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন তারা। গত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র একদিন ডিএসইর প্রধান সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময়ের মধ্যে সূচকের পতন হয়েছে ২৫২ পয়েন্ট। এ পতনের জেরে সূচক পাঁচ হাজারের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট। উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বাজার মূলধনও।

বাজারের এ পরিস্থিতিতে পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করেও আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি। এমনকি যেসব শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ১০-এর কম, সেসব শেয়ারের দরও কমছে। প্রতিদিনই তাদের লোকসানের বোঝা ভারী হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের অবস্থা ২০১০ সালের চেয়ে করুণ হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, ২০১০ সালের পতন ছিল আলোচিত। সেজন্য সবাই ওই পতনকে বড় করে দেখেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পতন চললেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সে সময়ের পতনকে ছাড়িয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে মুরাদ হোসেন নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সব সময় ভালো শেয়ারের সঙ্গে থাকতে বলে। আমরা বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী তাদের কথামতোই মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করি। কিন্তু বর্তমানে এর ফল উল্টো হচ্ছে। এসব শেয়ার থেকে আমরা কোনো রিটার্ন পাচ্ছি না, উল্টো প্রতিদিনই লোকসানের হিসাব কষতে হচ্ছে। পক্ষান্তরে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যে কারণে ভালো শেয়ারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। আর বাজারও তার প্রকৃত রূপ হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে, তখন সেই কোম্পানির কাছে এর দর বাড়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। একইভাবে যখন কোনো শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে কমে যায়, তখনও এর দর কমার কারণ জানতে চাওয়া উচিত।

অন্যদিকে বাজার পতন নিয়ে ডিএসই থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়। একটি পক্ষ বাজার পতনের জন্য বিনিয়োগকারীদের মনোগত কারণকে দায়ী করলেও অন্য পক্ষ মনে করছে, বাজারে কারসাজিকারীদের উপস্থিতি রয়েছে। তারা ছোট ছোট কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গেম করছে, যে কারণে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর ও চাহিদা কমে গেছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাজার পতনের কোনো কারণ দেখি না। আমার মনে হয়, বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি অস্থির হয়ে গেছেন। তাদের অস্থিরতার কারণেই বাজারের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বলব, তারা যেন অস্থিরতায় না ভোগেন, কিংবা আতঙ্কিত না হন।

একই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাজার থেকে একটি চক্র ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তারাই কৃত্রিমভাবে বাজারের এমন পরিবেশ তৈরি করছে। নিজেরা শেয়ার কেনার জন্যই তারা এমন করছে। বাজারে কিছু শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএসইসি যদি এসব বিষয়ে কঠোর হতো, তাহলে বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করে ভালো ফল পেতেন। আর বাজারেরও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।


শেয়ারবার্তা / হামিদ

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে