ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

পতনের বাজারে দুর্বল কোম্পানির ঝলক

২০১৯ সেপ্টেম্বর ০৬ ১১:২১:৩০
পতনের বাজারে দুর্বল কোম্পানির ঝলক

পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন থেকে মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পতনের ধাক্কায় একযোগে কমছে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর। তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে না গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ দেশি-বিদেশি ভালো মানের কোম্পানি। কিন্তু বাজারের এই পরিস্থিতিতে উল্টো অবস্থানে রয়েছে দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। দর বৃদ্ধির দৌড়ে রীতিমতো মৌলভিত্তির কোম্পানিকে টক্কর দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

এদিকে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকি এড়াতে এসব শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের দূরে থাকার পরমর্শ দিয়েছেন তারা। ‘জেড’ ক্যাটেগরি বা আর্থিকভাবে দুর্বল কিছু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন তারা।

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন এবং জ্বালানি ও শক্তি খাতের শেয়ারদর। এ দর বৃদ্ধি নিয়ে দুর্ভাবনার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্ট থেকে শুরু করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন থেকে বাজারে মন্দা পরিস্থিতি থাকায় ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এসব কোম্পানির গড় পিই-রেশিও বা শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত রয়েছে বিনিয়োগের অনুকূলে। ফলে এসব শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে ভয়ের কিছু নেই। তবে এসব খাতেও স্বল্পসংখ্যক কিছু কোম্পানি রয়েছে, যাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল। সেগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিষয়টিতে নজর রাখা জরুরি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারে যারা কারসাজি করে তাদের নজর থাকে স্বল্পমূলধনি এবং কম শেয়ার রয়েছে এমন কোম্পানির দিকে। কারণ এসব কোম্পানি অপেক্ষাকৃত কম পুঁজি নিয়ে গেম করতে পারে। আর তাদের ফাঁদে পা দেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সর্বশেষে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সবার আগে এসব শেয়ারে বিনিয়োগে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে বিএসইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সাম্প্রতিক বাজারচিত্রে দেখা যায়, প্রতিদিনই দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ঝলক দেখা গেছে। সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকছে এসব শেয়ার। বৃহস্পতিবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এদিন তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় চার টাকা ৩০ পয়সায়।

একইভাবে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় তিন টাকা ৪০ পয়সায়। বস্ত্র খাতের কোম্পানি সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারদরও প্রায় আট শতাংশ বাড়ে। দিন শেষে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ৩৭ টাকা ৩০ পয়সায়। একইভাবে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে দেখা যায়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, সুযোগসন্ধানীরা দুর্বল মূলধন ও শেয়ার কম থাকা কোম্পানি টার্গেট করে। এরপর নিজেরা কয়েকজন মিলে নেমে পড়ে জুয়া খেলায়। একটু একটু করে দর বাড়িয়ে শেয়ার সেল করে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। পরে আবার সুযোগমতো কম দরে শেয়ার কেনে। তাই এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে।

শেয়ারবার্তা / মামুন

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে