ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬

মন্দা বাজারেও দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দরে উল্লম্ফন

২০১৯ আগস্ট ০২ ১০:৫১:১১
মন্দা বাজারেও দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দরে উল্লম্ফন

সার্বিক অস্থিরতার মধ্যে আবার রুগ্‌ণ ও বন্ধ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির অধিকাংশের শেয়ারদর বাড়তে শুরু করেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে চারটিই ছিল জেড ক্যাটাগরির। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল মাত্র একটি শেয়ার। কয়েক দিনের ধারাবাহিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে বৃহস্পতিবারও।

সপ্তাহের শেষ কার্য দিবসে বৃহস্পতিবার জেড ক্যাটাগরির এমারেল্ড অয়েল, বিআইএফসি, বিডি ওয়েল্ডিং ও ঢাকা ডাইংয়ের শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে (আগের দিনের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি) কেনাবেচা হয়। এমনকি লেনদেনের শেষ পর্যায়ে ছিল বিক্রেতা শূন্য অবস্থায়। এগুলোর দর আরও বাড়বে মনে করে এখনই বাড়তি মুনাফার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তারা।

শুধু এ চার কোম্পানি নয়, বৃহস্পতিবার জেড ক্যাটাগরিভুক্ত ৪২ কোম্পানির মধ্যে ২৯টিরই বাজারদর বেড়েছে, যা মোটের প্রায় ৭০ শতাংশ। যেখানে 'এ' ক্যাটাগরির ২৬৭ কোম্পানির ৬১ শতাংশের বাজারদর বেড়েছে। ডিএসইর বৃহস্পতিবারের সার্বিক লেনদেনেও এর প্রভাব দেখা গেছে।

বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যখনই শেয়ারবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, তখনই জুয়াড়ি চক্র সক্রিয় হয়ে এ সুযোগের ফায়দা নেয়। তারা নানা গুজব ছড়িয়ে দুর্বল ও রুগ্‌ণ সব শেয়ারের দর আকাশচুম্বি করে তোলে। বছরের পর বছর কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারদর বৃদ্ধির ঘটনা ঘটলেও এগুলো ঠেকাতে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এ কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেই প্রলুব্ধ হয়ে এসব শেয়ার কেনেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের বড় অংশ আর্থিক ক্ষতির শিকার হন বলে বাজার-সংশ্নিষ্টরা উল্লেখ করেন।

কিছু ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার 'এ' ক্যাটাগরির যেসব শেয়ার দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল, সেগুলোর বেশির ভাগের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বরং নানা কারসাজির মাধ্যমে গত বছরও এগুলোর বাজারদর আকাশচুম্বি করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল মুন্নু সিরামিক; লেনদেন হয়েছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে। টানা পাঁচ মাস দরপতন শেষে গত ২২ জুলাই থেকে এটির দর বাড়ছে। সর্বশেষ ৯ কার্যদিবসে ১২৮ টাকা থেকে ২১৪ টাকা ছাড়িয়েছে। শুধু এটি নয়, বৃহস্পতিবার অন্তত ১৭ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে।

এগুলো হলো- আলহাজ্ব টেক্সটাইল, আরামিট লিমিটেড, বিআইএফসি, ঢাকা ডাইং, ইস্টার্ন ল্যুব্রিকেন্টস, এমারেল্ড অয়েল, মুন্নু সিরামিক, মুন্নু স্টাফেলার্স, রানার অটোমোবাইলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, স্টাইল ক্রাফট, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বিডি ওয়েল্ডিং, দুলামিয়া কটন, গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন, ইমাম বাটন এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস। এর মধ্যে প্রথম ১২টি লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে ছিল এবং বিক্রেতা ছিল না।

অন্যদিকে ডেল্টা স্পিনার্স সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়। এ ধারায় ছিল সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এসইএমএলের ব্যবস্থাপনাধীন দুই মেয়াদ মিউচুয়াল ফান্ড এসইএমএল এফবিএসএল ও এসইএমএল আইবিবিএল। তবে বৃহস্পতিবার এনসিসি প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়।

এদিকে বুধবারের সার্বিক নিম্নমুখী ধারার বিপরীতে বৃহস্পতিবার সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা ছিল লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৮৩ শেয়ার ও ফান্ডের বাজারদর কমার বিপরীতে ২১৮টিরই দর বেড়েছে, অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির দর। এতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৫১৬৯ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতেও ছিল একই চিত্র।

খাতওয়ারী লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত ছাড়া অন্য সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের বাজারদর বেড়েছে। ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৩টির বাজারদর বেড়েছে, কমেছে আটটির এবং বাকি নয়টির দর ছিল অপরিবর্তিত। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের লেনদেন হওয়া ২২ শেয়ারের মধ্যে ১১টির দর বেড়েছে, কমেছে সাতটির। তবে বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ১৫টির দর বেড়েছে, দর হারিয়েছে ২১টি।

উৎপাদন ও সেবামুখী খাতগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৪ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে পাঁচটির। প্রকৌশল খাতের ২৯টির দর বেড়েছে, কমেছে পাঁচটির। ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৫টির দর বেড়েছে, কমেছে চারটির। বস্ত্র খাতের ৪০টির দর বেড়েছে, কমেছে ছয়টির। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ১৪ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, দর কমেছে একটির। বাকি ১০ খাতের লেনদেন হওয়া ৫৬ শেয়ারের মধ্যে ৪৭টির দর বেড়েছে।

শেয়ারবার্তা / মামুন

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে