ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬

নানা প্রণোদনার পরও ডিএসইর লেনদেনে ৫২ শতাংশ ধস

২০১৯ জুলাই ৩১ ২২:৩৫:৩৬
নানা প্রণোদনার পরও ডিএসইর লেনদেনে ৫২ শতাংশ ধস

পুঁজিবাজারের জন্য নানা প্রণোদনা দেয়ার পরও নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। যা গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ কম। এ সময়ে সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ডিএসই বাজার পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা যায়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) জুলাই মাসে মোট ২২ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৮ হাজার ৯৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। যা গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয়েছে ৪০৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) জুলাই মাসেও মোট ২২ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। যা গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৯ হাজার ৭৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ।

অপরদিকে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) জুলাই মাস শেষে ডিএসইর সূচক দাড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে। যা গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) জুলাই মাস শেষে ছিল ৫ হাজার ৩০২ পয়েন্টে। গত অর্থবছরের তুলনায় সূচক কমেছে ১৬৪ পয়েন্টে বা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে জুলাই মাসে মোট ২২ কার্যদিবসের মধ্যে সূচক কমেছে ১৪ দিন, আর গত অর্থবছরে জুলাই মাসেও মোট ২২ কার্যদিবসের মধ্যে সূচক কমেছিল ১০ দিন। এরমধ্যে চলতি অর্থবছরের আলোচিত সময়ে সর্বোচ্চ সূচক ছিল ৫ হাজার ৩৮৪ পয়েন্ট এবং সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৯৬৬ পয়েন্ট। আর গত অর্থবছরের আলোচিত সময়ে সর্বোচ্চ সূচক ছিল ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্ট এবং সর্বনিম্ন ৫ হাজার ২৬২ পয়েন্ট।

এদিকে চলতি অর্থবছরের আলোচিত সময়ে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ৫১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর গত অর্থবছরের আলোচিত সময়ে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৫৭৭ কোটি টাকা।

আর গত অর্থবছর জুলাই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছর জুলাই মাসে বাজার মূলধন কমেছে ৬৬৭ কোটি ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৫ টাকা। চলতি অর্থবছরের আলোচিত সময়ে বাজার মূলধন দাড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যা চলতি অর্থবছরের আলোচিত সময়ে ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, নতুন অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষভাবে রাখা হয় বেশকিছু প্রণোদনা এবং পুঁজিবাজারে সুশাসনের দিকেও গুরুত্বারোপ করা হয়। এর সাথে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নানা রকম সংস্কার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সগযোগিতা নিয়ে গত ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু করে শেয়ারবাজার।

বাজেটে প্রণোদনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কোনো কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের সমপরিমাণ বোনাস দিলে বোনাসের উপর কর দিতে হবে না। আর শুধু বোনাস দিলে অথবা নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি বোনাস দিলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অন্যদিকে নিট মুনাফার ৭০ শতাংশের বেশি রিটেইন্ড আর্নিংস ও রিজার্ভ হিসেবে স্থানান্তর করা না হলে তার জন্য কোনো কর দিতে হবে না। কিন্তু ৭০ শতাংশের বেশি স্থানান্তর করা হলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এবং লভ্যাংশে করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

শেয়ারবার্তা / মামুন

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে