ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

কপারটেক ইস্যুতে নতুন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে : বিএসইসি

২০১৯ জুলাই ০৬ ১৫:০৬:৩৯
কপারটেক ইস্যুতে নতুন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে : বিএসইসি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেছেন. কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়ে নতুন একটি পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। যেটা দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এর কাউন্সিল সভায় কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের নিরীক্ষক আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তৈরী হয়েছে। তবে বিষয়টি অফিশিয়ালি আমরা এখনো জানি না। অফিস খুললে বিষয়টি সর্ম্পক্যে বুঝা যাবে, কি হবে। সে বিষয়টাও আপনাদেরকে (সাংবাদিক) জানিয়ে দেব। এর আগে কপারটেক ইস্যুতে কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সাথে সাথে তা প্রেস রিলিজ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (০৬ জুলাই) বিএসইসির নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের আলোকে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির আরেক নির্বাহি পরিচালক ফরহাদ আহমেদ বলেন, যেকোনো ইস্যু একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসে। এক্ষেত্রে অনেক প্রসেস থাকে। পৃথিবীর কোন রেগুলেটর বলতে পারবে না, একটি কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসলে ভালো করবে বা খারাপ করবে। সব কোম্পানিই যে সফলতার সাথে চলবে, এটা কেউ বলতে পারবে না।

তিনি বলেন, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যুতে এখন একটি পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। এইটার বিষয়ে এখন যারা (ডিএসই) আপত্তি দিচ্ছেন, তারা প্রথমে কি দিয়েছিলেন তা আপনারা (সাংবাদিক) চাইলেই জানতে পারবেন। এই কোম্পানিটি আসলেই খারাপ করবে নাকি ভালো করবে- সেটা আপনারা কি করে জানেন? এটা কেউ বলতে পারবে না।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেখেন একটি ইস্যু যখন আমাদের কাছে আসে, অনেকগুলো প্রসেস দিয়ে আসে। তবে স্টেকহোল্ডার হিসাবে আপনার বলার থাকতে পারে। কিন্তু আপনি (ডিএসই) আগে একরকম দেওয়ার পরে এখন যদি অন্যরকম পর্যবেক্ষন (অবজারবেশন) থাকে, সেক্ষেত্রে কঠিন (ডিফিকাল্ট) হয়ে যায়। তারপরেও যদি তালিকাভুক্তির আগের মুহূর্তের স্টেজে এসে হয়। তারমধ্যে আবার ২ স্টক এক্সচেঞ্জ ২ রকম মূল্যায়ন করেছে। একজন লিস্টিং দেবে, আরেকজন দেবে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যুতে অসহযোগিতার জন্য বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের নিরীক্ষা লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিএবি। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের কোম্পানির নিরীক্ষা কাজের যোগ্যতা হারিয়েছে।

আইসিএবি থেকে জানানো হয়, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যুতে আইসিএবির রিভিউ কাজে সহযোগিতা করেনি আহমেদ অ্যান্ড আক্তার কর্তৃপক্ষ। আইসিএবির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রিভিউয়ের জন্য ৪ দফায় চিঠি দেওয়া হলেও ‘ওয়ার্কিং পেপার’ দিয়ে সহযোগিতা করেনি। এক্ষেত্রে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একেকবার একেকরকম অজুহাত দেখানো হয়েছে। যা আইসিএবির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। যে কারনে গত ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষা লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিএবি। যে ঘটনা আইসিএবির ইতিহাসে প্রথমবার ঘটল। এছাড়া কোন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা না করার ঘটনাও প্রথমবারের মতো ঘটেছে।

আরো জানানো হয়, আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের প্রাকটিসিং লাইসেন্স নবায়ন না করার বিষয়টি এরইমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২ জুলাই শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিরীক্ষা কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিএসইসি। বিএসইসি জানায়, আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের পার্টনার শাহেদ মোহাম্মদ অবসরের কারণে নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পার্টনারশীপ থেকে প্রোপ্রাইটরশীপে পরিণত হয়েছে। যা আইসিএবি থেকে ২৬ মে এক চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়। এর মাধ্যমে আহমেদ অ্যান্ড আক্তার শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার যোগ্যতা হারিয়েছে।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে