ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

একমি ল্যাবরেটরিজের পেনিসিলিন ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু

২০১৯ জুন ১৫ ১১:২৫:০২
একমি ল্যাবরেটরিজের পেনিসিলিন ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু


দি একমি ল্যাবরেটরিজের পেনিসিলিন ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পেনিসিলিন ইউনিটটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থে বাস্তবায়নাধীন তিনটি প্রকল্পের অন্যতম। ধামরাইয়ের দুলিভিটায় স্থাপিত ইউনিটটিতে সফলভাবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে একমি ল্যাবরেটরিজ যে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেগুলো হলো স্টেরয়েড ও হরমোন ইউনিট, পেনিসিলিন ইউনিট ও অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) প্রকল্প। নিরীক্ষা ফার্ম পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একমি ল্যাবরেটরিজ আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ৩৬৪ কোটি টাকা খরচ করেছে। এর মধ্যে স্টেরয়েড ও হরমোন প্রকল্পে ১৬৬ কোটি, পেনিসিলিন প্রকল্পে ৪০ কোটি ও এপিআই প্রকল্পে ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ বাবদ ১৩৬ কোটি ও আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ নির্বাহে ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্র অনুযায়ী, হরমোন ও স্টেরয়েড এবং পেনিসিলিন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটাই চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। তবে এপিআই প্রকল্পে এখনো কিছু অর্থ অব্যবহূত রয়েছে। অবশ্য কোম্পানিটির ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এপিআই প্রকল্পে আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

গত মার্চে একমি ল্যাবরেটরিজের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আইপিওর অর্থে স্থাপিত স্টেরয়েড ও হরমোন ইউনিট এবং পেনিসিলিন ইউনিটে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। জুন অর্থাৎ চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিট দুটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা সে সময় জানিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পেনিসিলিন ইউনিটে বাণিজ্যিক উৎপাদনের ঘোষণা দিল।

একমি ল্যাবরেটরিজের কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমাদের স্টেরয়েড ও হরমোন ইউনিট এবং পেনিসিলিন ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে। এর পর থেকেই ইউনিট দুটিতে পরীক্ষামূলক উৎপাদন চালানো হয়েছে। ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে নতুন ইউনিটে বাণিজ্যিক উৎপাদন চালুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন চালিয়ে দেখতে হয় সবকিছু ঠিক আছে কিনা। সফল পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষে পেনিসিলিন ইউনিটে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। আশা করছি, চলতি মাসের মধ্যেই স্টেরয়েড ও হরমোন ইউনিটেও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। নতুন দুই ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে এলে কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রথমে আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ একমি ল্যাবরেটরিজের স্টেরয়েড ও হরমোন ইউনিট, অনকোলজি ইউনিট এবং আয়ুর্বেদিক, মডার্ন হারবাল ও নিউট্রাসিউটিক্যাল ইউনিট স্থাপনে ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আইপিওর অর্থ ব্যয় পরিকল্পনা পরিবর্তন করে কোম্পানিটি অনকোলজির বদলে পেনিসিলিন এবং আয়ুর্বেদিক, মডার্ন হারবাল ও নিউট্রাসিউটিক্যাল ইউনিটের বদলে এপিআই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি ১৩৬ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে একমি ল্যাবরেটরিজ। এজেন্সির কর্মকর্তারা ধামরাইয়ের দুলিভিটায় একমির কারখানা পরিদর্শন শেষে কোম্পানিটিকে জিএমপি সার্টিফিকেট প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যসহ সমগ্র ইউরোপের বাজারে একমির ওষুধ রফতানির দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে একমির বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৪২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১৩৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে