ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

স্টক লভ্যাংশ দিলে ১৫ শতাংশ আয়কর

২০১৯ জুন ১৪ ১০:৩২:০০
স্টক লভ্যাংশ দিলে ১৫ শতাংশ আয়কর

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশকিছু প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশকে উৎসাহিত করতে বাজেটে স্টক লভ্যাংশের ওপর করারোপ, অবণ্টিত মুনাফা ও সঞ্চিতির ওপর করারোপ, করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা বাড়ানো এবং নিবাসী ও অনিবাসী সব কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের ওপর দ্বৈতকর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনায় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত লভ্যাংশ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি নগদ লভ্যাংশকে উৎসাহিত করতে কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করলে তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যৌক্তিক কারণ ছাড়া স্টক লভ্যাংশ প্রদানের প্রবণতা কমবে। এ লক্ষ্যে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এ ১৬(এফ) নামে একটি নতুন ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত ও দেশের যেকোনো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি অন্তর্বর্তী অথবা যেকোনো ধরনের স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করলে আয়কর আইন অনুসারে প্রযোজ্য কর পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে যে পরিমাণ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে, তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ কর স্টক লভ্যাংশ ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

স্টক লভ্যাংশের ওপর করারোপের বিষয়ে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে লগ্নিকারীরা নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার আশা করেন। এ বিবেচনায় নগদ লভ্যাংশ প্রদান সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি ও পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কোম্পানিগুলোর মধ্যে নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে স্টক লভ্যাংশ অর্থাৎ বোনাস শেয়ার বিতরণের প্রবণতা দেখা যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পুঁজিবাজারের অনেক কোম্পানির মধ্যে তাদের মুনাফার অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের না দিয়ে অবণ্টিত মুনাফা ও সঞ্চিতি হিসেবে রেখে দেয়ার প্রবণতা দেখা যায় উল্লেখ করে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে শেয়ারহোল্ডাররা প্রত্যাশিত লভ্যাংশ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এ ধরনের প্রবণতা রোধ করতে বাজেটে কোনো কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফা ও সঞ্চিতির পরিমাণ যদি এর পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তবে সেক্ষেত্রে যতটুকু বেশি হবে, তার ওপর কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এ ১৬(জি) নামে একটি নতুন ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ধারা অনুসারে, যেকোনো হিসাব বছরে কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত ও দেশের যেকোনো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির মোট অবণ্টিত মুনাফা, যেকোনো ধরনের সঞ্চিতি অথবা অন্য যেকোনো ধরনের ইকুইটি (পরিশোধিত মূলধন ব্যতীত), যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, এর পরিমাণ যদি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তবে সেক্ষেত্রে যতটুকু বেশি হবে তার ১৫ শতাংশ হারে সে আয় বছরে কোম্পানিকে কর দিতে হবে।

এছাড়া, প্রস্তাবিত বাজেটে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা প্রদান ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ের করমুক্ত সীমা বিদ্যমান ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নিবাসী কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের ওপর গত বছর একাধিক ধাপে করারোপ (কার্যত দ্বৈতকর) প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য এ বছর প্রস্তাবিত বাজেটে নিবাসীর পাশাপাশি অনিবাসী কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ বিধান কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে