ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ মুনাফায় পাওয়ারগ্রীড

২০১৯ জুন ০৮ ১৪:১৫:৪৪
তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ মুনাফায় পাওয়ারগ্রীড

চলতি অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই’১৮ হতে মার্চ’১৯) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান পাওয়াগ্রীড লিমিটেড শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৫ টাকা ৮০ পয়সা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর এটি কোম্পানিটির সর্বোচ্চ মুনাফা। গত বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওটিও ছিল তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিটির সর্বোচ্চ লভ্যাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৪ সালে পাওয়ারগ্রীডের শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৬ পয়সা। এরপর ২০১৫ সালে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরে আসে। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৯০ পয়সা। এরপর ২০১৬ সালে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ২ টাকা ৬৬ পয়সা, ২০১৭ সালে ৪ টাকা ৩৩ পয়সা এবং গতবছর ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। আর চলতি ২০১৯ সালের ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫ টাকা ৮০ পয়সা। এটি কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর শেয়ারপ্রতি সর্বোচ্চ মুনাফা।

কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মনাফা হয়েছে ২ টাকা ৪৩ পয়সা। যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা। মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এসেছে ৪৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মনাফা হয়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সা। যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৯৫ পয়সা। মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এসেছে ৬২ দশমিক ১০ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মনাফা হয়েছে ১ টাকা ৮২ পয়সা। যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৮৮ পয়সা। মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এসেছে ১০৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫ টাকা ৮০ পয়সা। যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৫২ পয়সা। মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এসেছে ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও কোম্পানিটি লভ্যাংশ দেয়া শুরু করে ২০১০ সাল থেকে। ২০১০ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ, ২০১২ সালে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ, ২০১৫ সালে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৬ সালে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৭ সালে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং গতবছর ২০১৮ সালে ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে। মুনাফায় ঘাটতি থাকায় ২০১১, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে ৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে মুনাফার দিক থেকে ২য় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী হিসাবে আর্বিভুত হয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ব িকোম্পানি পাওয়ারগ্রীড। বিদ্যুৎ খাতে ৯টি কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই’১৮ হতে মার্চ’১৯) শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ারের ১২ টাকা ৮৮ পয়সা, পাওয়ারগ্রীডের ৫ টাকা ৮০ পয়সা, ডরিন পাওয়ারের ৫ টাকা ৩২ পয়সা, সামিট পাওয়ারের ৩ টাকা ৫৬ পয়সা, শাহাজীবাজার পাওয়ারের ৩ টাকা ৫৪ পয়সা, কেপিসিএলের ৩ টাকা ৯ পয়সা, ডেসকোর ১ টাকা ৯৮ পয়সা, বারাকা পাওয়ারের ১ টাকা ২৭ পয়সা ও জিবিবি পাওয়ারের ৭৬ পয়সা।

এদিকে, মূল্য আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) দিক থেকে পাওয়াগ্রীড সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ উপযোগি অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ বাজার দরের ভিত্তিতে পাওয়ারগ্রীডের পিই হলো ৭ দশমিক ৬৭, সামিট পাওয়ারের ৮ দশমিক ৫৩, ডরিন পাওয়ারের ১১ দশমিক ৩১, জিবিবির ১১ দশমিক ৩৫, কেপিসিএলের ১৩ দশমিক ২০, ডেসকোর ১৭ দশমিক ৪২, বারাকা পাওয়ারের ১৭ দশমিক ৬০, শাহাজীবাজার পাওয়ারের ১৮ দশমিক ১৪ এবং ইউনাইটেড পাওয়ারের ২০ দশমিক ২ পয়েন্ট।

উল্লেখ্য, পাওয়ারগ্রীডের অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৬০ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ১৬ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে