ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

অব্যবস্থাপনায় ডুবতে বসেছে কেয়া কসমেটিকস

২০১৯ জুন ০৬ ১৬:২০:৩২
অব্যবস্থাপনায় ডুবতে বসেছে কেয়া কসমেটিকস

প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার কারণে ডুবতে বসেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কেয়া কসমেটিকস। প্রথমে পরিচালকদের অনিয়ন্ত্রিত শেয়ার বিক্রি এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিত করে দেয় কোম্পানিটি। পাশাপাশি আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে আগ্রহের ভাটা পড়ে বিনিয়োগকারীদের। যার জের ধরে কমতে থাকে এর শেয়ারদর, বর্তমানে যা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ার পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ টাকার কমে।

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি ১৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা মুনাফা করে, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৩৫ কোটি টাকা বেশি। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ করে বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে দেখা যায়। পরের বছরই প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা উল্লেখযোগ্যহারে কমে যায়। এ (২০১৮) বছর প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয় ১২১ কোটি টাকা। তবে এ বছরও প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদানের ঘোষণা দেয়। বার্ষিক সাধারণ সভার দিনক্ষণও ঠিক করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে এ সভা স্থগিত করা করা হয়। পরবর্তীতে যা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে। মাত্র আট মাসের ব্যবধানে কোম্পানির পরিচালকেরা ১৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ শেয়ার বিক্রির করে দেয়। কোম্পানির প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ছিল ৬২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তা নেমে আসে ৪৬ দশমিক ২৭ শতাংশে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, বার্ষিক সাধারণ সভার আগে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া এবং পরবর্তীতে সভা স্থগিত করে দেওয়ার বিষয়টি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। মূলত সে কারণে তারা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করেছে। তারা কৌশলে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। আর এখন ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পরিচালকেরা যখন কোনো কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দেয় তখন ওই শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এমনিতেই কমতে থাকে। কারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তখন এক ধরনের ভীতি ঢুকে যায়। যে কারণে পরিচালকরা তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করলে ওই কোম্পানির শেয়ারদরে এর প্রভাব পড়ে।

এদিকে কোম্পানির বর্তমান পরিস্থিতি জানতে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা কিছু সমস্যায় ভুগছি। যে কারণে ব্যবসাও মন্দা। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমার বিশেষ কোনো কারণ নেই। গত তিন মাস ধরে বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর নিম্নমুখী রয়েছে। আমাদের কোম্পানির বেলায়ও একই পরিস্থিতি হয়েছে।

অন্যদিকে এখনও দায়দেনায় জর্জরিত এ কোম্পানিটি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী (২০১৮) এ কোম্পানির মোট ঋণ রয়েছে ৮৫৭ কোটি টাকা। এর আগের বছর প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে কোম্পানিটির ঋণ কমেছে মাত্র দুই কোটি টাকা।

এদিকে বিএসইসির নির্দেশনা ও স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশন অনুসারে, জীবন বিমা কোম্পানি ছাড়া অন্য খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রথম প্রান্তিক শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের নিয়ম রয়েছে। একইভাবে আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিক শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের করতে হয়। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন থেকে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। যে কারণে বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আড়ালে রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, দুবছর আগে এর প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ১৮ টাকা। পরবর্তীতে পরিচালকেদের শেয়ার বিক্রি এবং বার্ষিক সাধারণ সভা না হওয়ার কারণে এর শেয়ারের চাহিদায় ভাটা পড়তে থাকে। ফলে কমতে শুরু করে দর। সর্বশেষ বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ার চার টাকা ৮০ পয়সায় ক্লোজিং হয়।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে