ঢাকা, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

বাজেটে করপোরেট কর হার কমানোর দাবি বিআইএ’র

২০১৯ মে ২১ ১৩:৫৭:১২
বাজেটে করপোরেট কর হার কমানোর দাবি বিআইএ’র

আসন্ন (২০১৯-২০) বাজেটে করপোরেট কর হার কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। উৎপাদনকারী ও অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বীমা কোম্পানিরও কর হার ২৫ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া বীমা খাতের উন্নয়নে আরও ৮টি দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ মে) রাজধানীতে বিআইএ’র কার্যালয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, লাইফ এবং নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে বেকারত্ব নিরসন, বিনিয়োগ, শেয়ার বাজার, সম্পদ পুঞ্জিভূত করন, সরকারী কোষাগারে কর প্রদান এবং অর্থ একত্রীকরনে বিশেষ ভুমিকা পালন করছে। এই শিল্পের ভবিষৎ অনেক উজ্জ্বল। কিন্তু কিছু সমস্যার কারনে আমাদের এ খাতের উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে।

বাজেটে বীমা খাতের দাবিগুলো-

.করপোরেট কর হার হ্রাস করা। এ দাবির পক্ষে বলা হয়, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর হার সাড়ে ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর হার ২৫ শতাংশ অথবা তার চেয়ে কম। তাই বীমা কোম্পানির কর্পোরেট কর হার কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা প্রয়োজন।

.কৃষি বীমার ওপর থেকে কর রহিত করা। এ দাবির পক্ষে বলা হয়, জলবায়ু পবির্তনের কারণে এই খাত ক্রমাগত বিপন্ন হচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা কৃষি কাজে অনিহা প্রকাশ করছে। তাই কৃষকদের জন্য কৃষি বীমা অপরিহার্য্য। কৃষি বীমা উন্নয়নে কৃষি বীমা প্রিমিয়ামের ওপর মূল্য সংযোজন কর এবং কৃষি বীমা থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর কর্পোরেট কর হার রহিত করা প্রয়োজন।

.পুন:বীমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর রহিত করা। এ দাবির পক্ষে বলা হয়, বর্তমানে বীমা কোম্পানীগুলো পুন:বীমা প্রিমিয়াম পাঠানোর ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন সম্পর্কিত অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। পুন:বীমার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে কর আরোপিত হলে বীমা কোম্পানীগুলোর ব্যবসায়িক ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে এবং এই শিল্পে একটি সংকটময় পরিস্থিতি উদ্ভব হবে। যার ফলশ্রুতিতে কোম্পানী তার অর্জিত মূনাফা হতে বঞ্চিত হইবে এবং সরকারও রাজস্ব হতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

. বীমা এজেন্টদের উৎসে কর থেকে অব্যাহতি দেয়া। এ দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বীমা এজেন্টদের কমিশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করার বিধান রয়েছে। পক্ষান্তরে, বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ প্রেক্ষিতে বীমা শিল্পে কর্মরত স্বল্প আয়ের এজেন্টদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের ন্যয় ন্যূনতম করমুক্ত আয় সীমা পর্যন্ত উৎসে কর কর্তন থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত।

.জীবন বীমা পলিসি হোল্ডারদের পলিসি বোনাসের ওপর ৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স কর্তন বন্ধ করা। এ দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, পলিসি বোনাসের ওপর ৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স আরোপ করার ফলে দেশের সকল লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র পলিসি হোল্ডারদের সংখ্যা কমে গেছে। গ্রাম-গঞ্জের ক্ষুদ্র পলিসি হোল্ডারদের ঝুঁকির বিষয় মুনাফার সম্বন্ধে সুবিধার কথা বুঝিয়ে তারপর পলিসি বিক্রি করা হয়। ক্ষুদ্র পলিসি হোল্ডারদের পলিসি বোনাসের ওপর ৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্সের যে বিধান চালু করা হয়েছে তা যদি উঠিয়ে নেওয়া না হয় তাহলে দেশে লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র ব্যবসা প্রতিনিয়ত কমতে থাকবে এবং কোম্পানীগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে।

.পুন:বীমা কমিশনের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে যে উৎসে মূল্য সংযোজন কর আদায় করা হয়, তা থেকে অব্যাহতি দেয়া। এ দাবির পক্ষে বলা হয়, পুনঃবীমা প্রিমিয়ামের কমিশনের ওপর মুসক প্রযোজ্য নয়। বীমা কোম্পানি প্রিমিয়াম গ্রহণ করলেই গ্রাহকের নিকট থেকে ১৫ শতাংশ হারে মূসক গ্রহন করে তা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করে। যেহেতু একই বিষয়ের ওপরে ভ্যাট প্রদান করা হয়েছে, পুনরায় একই বিষয়ে ভ্যাট প্রদান করা হলে তা দ্বৈত করের সামিল হবে।

৭.নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র স্বাস্থ্য বীমার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করা। এ দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, লাইফ ইন্স্যুরেন্সগুলো (জীবন বীমা) হেলথ্ ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদেরকে এই পলিসির জন্য ভ্যাট দিতে হয়না। পক্ষান্তরে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করে থাকে। যার ফলে হেলথ্ পলিসির মূল্য হার বেশি হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর হেলথ্ পলিসি সমূহ জনপ্রিয়তা অর্জনে বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে। হেলথ্ পলিসির ওপর থেকে ভ্যাট মওকুফ করা হলে অনেক গ্রাহকই হেলথ্ পলিসির আওতায় আসবে।

৮. অনলাইন ভিত্তিক বীমার প্রিমিয়ামের ওপর মূল্য সংযোজন কর রহিত করা। এ দাবির পক্ষে বলা হয়, ভিশন ২০২০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ইতিমধ্যে বীমা খাত অনলাইন পলিসি ইস্যু করার উদ্যেগ গ্রহণ করেছে। যা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ বীমা সেবা দেবার পথকে সুগম করবে। আইসিটি কোম্পানিগুলোর মত অনলাইন ভিত্তিক পলিসির প্রিমিয়াম থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর কর্পোরেট কর রহিত করা হলে গ্রাহকরা উৎসাহিত হয়ে বীমা সেবা গ্রহণ করবে।

. নতুন সামাজিক পণ্যে ট্যাক্স এবং ভ্যাট ছাড়। এ দাবির পক্ষে বলা হয়, বিভিন্ন সামাজিক বীমা পণ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য বীমা ম্যাক্রো অর্থনীতির উন্নয়নে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমাদের জীবনযাত্রার মানের উপার ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। সামাজিক জীবন যাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে বীমা শিল্পের আওতায় আনতে যে বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন তার জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে এবং গ্রাহকদেরকে কর অবকাশের অথবা ক্যাশ ইনসেনটিভের সুযোগ দেয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন- বিআইএ’র সহ-সভাপতি রুবিনা হামিদ ও মনিরুল ইসলাম। কার্যনির্বাহী সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, জামাল এ নাসের, নাসির উদ্দিন পাভেল, ফারজানা চৌধুরী, আদিবা সুলতানা প্রমুখ।

শেয়ার বার্তা/ সাগর

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে