ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

কপারটেকের নিরীক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এফআরসি

২০১৯ মে ১৫ ১০:৫৯:২৫
কপারটেকের  নিরীক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এফআরসি

শেয়ারবাজারে আসার অপেক্ষায় থাকাকপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডেরআর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে নিরীক্ষক আহমেদ অ্যান্ড আখতার চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টসের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। মঙ্গলবার এ নিয়েইনিস্টিটিউট অফ চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) বরাবরে একটি চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। এফআরসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে এফআরসির চেয়ারম্যানসি কিউ কে মুসতাক আহমদকে বলেন, আমরা কপারটেকেরআর্থিক প্রতিবেদন ক্ষতিয়ে দেখতে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। তবে তাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে এফআরসিকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে কোম্পানিটিরআর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে একটি দৈনিকের প্রতিবেদন প্রকাশ ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএসইও বৈঠকে আলোচনা করেছে। আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৭ দিনের মধ্যে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এই কোম্পানির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে ডিএসইর পর্ষদ আগামী দিনের সিদ্ধান্ত নিবে।

এনিয়ে পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন এবারের তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখবে; হারিয়ে যাবে না।

জানা গেছে, আইপিও পাশ হওয়ার আগে বিএসইসির কাছে পাঠানো মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ছোটখাটো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি উল্লেখ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের বিপক্ষে মত দেয়। কিন্তু যেসব তথ্যের ভিত্তিতে এমন মত দিয়েছে, সেখানে আর্থিক প্রতিবেদনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি বা কোম্পানির আর্থিক দুর্বলতার কোনো উল্লেখ নেই।

যত গরমিল :কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের শুরুতে আদায়যোগ্য নগদ অর্থ বা রিসেভেবলস ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ওই বছরে পণ্য বিক্রি হয় ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার। পণ্য বিক্রি থেকে নগদ আদায় ৫০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। উপরন্তু অগ্রিম বিক্রি আরও প্রায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে ক্লোজিং রিসেভেবলস হওয়ার কথা ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একইভাবে আর্থিক প্রতিবেদনে দেনা হিসাবে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা দেখালেও কাঁচামাল ক্রয় এবং এর বিপরীতে পরিশোধ হিসাব করলে অঙ্কটা দাঁড়ায় ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা।

কপারটেকের দেওয়া তথ্যে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৩৩ শতাংশ কমলেও সুদব্যয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল প্রায় ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে তা নামে ২৬ কোটি টাকায়। কিন্তু আগের বছর যেখানে এ ঋণের বিপরীতে পৌনে ২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করে, গত বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ১৭ শতাংশ কমার বিপরীতে সুদ ব্যয় বেড়েছে ৪৬১ শতাংশ। সার্বিক হিসাবে ঋণ ২৬ শতাংশ কমলেও সুদ ব্যয় বেড়েছে ১৩৩ শতাংশ। এছাড়া লিজ ঋণ ৪৫ শতাংশ বাড়লেও সুদব্যয় বেড়েছে ৫ হাজার শতাংশ। অর্থাৎ একদিকে কোম্পানির ঋণ কমেছে, কিন্তু বেড়েছে সুদ পরিশোধের পরিমাণ। এ বৈপরীত্যের বিষয়ে কোম্পানি বা অডিটরের কোনো ব্যাখ্যা বা পর্যবেক্ষণ নেই।

দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরের প্রতিটিতে বিক্রয় কার্যক্রমে খরচ মোট বিক্রির ৭৫ শতাংশ। বিক্রয় বাড়লেও কী করে প্রতি বছর খরচ ৭৫ শতাংশই হলো, তার ব্যাখ্যা নেই। কপারটেক প্রতি হিসাব বছর শেষে মজুদ পণ্যের যে দাম উল্লেখ করেছে, তাও অবিশ্বাস্য। গত হিসাব বছরে যেখানে মোট টার্নওভার ছিল ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, সেখানে এর ইনভেনটরিজ ৩২ কোটি টাকার। ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে যেখানে টার্নওভার ছিল পৌনে ৯ কোটি টাকারও কম, সেখানে ইনভেনটরিজ ছিল পৌনে ১০ কোটি টাকার। মাঝের বছরগুলোর তথ্যও একই রকম। এমন তথ্য বলছে, কোম্পানিটি তার বাজার চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করছে, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

কপারটেক আইপিওতে আসার মাত্র দেড় বছর আগে রাতারাতি পরিশোধিত মূলধন ১৫ গুণ বা ১৫০০ শতাংশ বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ আইপিওতে আসার লক্ষ্য নিয়ে অযথা শেয়ার বাড়িয়েছে। ২০১৪ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসা কপারটেকের মালিকপক্ষ নিজেদের শেয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে আইপিও-পরবর্তী সময়ে মালিকপক্ষের মালিকানা ৩০ শতাংশে নেমেছে।

শেয়ার বার্তা/ সাগর

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে