ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

আইসিবির মতো আরেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত

২০১৯ এপ্রিল ১৭ ১৪:১৩:০৯
আইসিবির মতো আরেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত

আইসিবি গঠন করা হয়েছে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল অবস্থানে রাখার জন্য। যখন বাজারে খারাপ অবস্থা বিরাজ করে তখন আইসিবি’র উচিত সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু আইসিবির সাম্প্রতিক যে আচরণ সেটা বাজারের জন্য ইতিবাচক মনে হচ্ছে না। তাই আইসিবির মতো বিকল্প আরেক প্রতিষ্ঠান করা যায় কি না তা ভেবে দেখা উচিত। ভারত, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে আইসিবির মতো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারকে ভালো করতে হলে সত্যিকারভাবে আইসিবিকে ভূমিকা রাখতে হবে। মঙ্গলবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সিনিয়র নিউজ কনসালটেন্ট রায়হান এম চৌধুরী, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট সাইফ ইসলাম দিলাল এবং এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম।

সাইফ ইসলাম দিলাল বলেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ পরিকল্পনা দরকার। সাময়িক পরিকল্পনায় বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে না। বাজার স্থিতিশীল বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কতটুকু কাজ করছে সেটাই দেখার বিষয়। এখন যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাজার ভালো করার জন্য কাজ না করে সেক্ষেত্রে ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ২০১০ সালের মতো পতন অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে এবং বেসরকারি এবং বহুজাতিক কোম্পানি বাড়ছে। কিন্তু ওইসব কোম্পানি বাজারে আসছে না। বাজারে যেসব কোম্পানি আসছে বা রয়েছে তাদের বেশিরভাগই স্বল্পমূলধনি। আর ওইসব কোম্পানির শেয়ারদর কারসাজির মাধ্যমে বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শফিকুল আলম বলেন, বাজার ভালো করার ক্ষেত্রে বিএসইসি ও ডিএসইর কিছু দায়ভার রয়েছে। যখন কোনো কোম্পানি বাজারে আসে তখন ওই কোম্পানির যাবতীয় তথ্য ভালো করে যাচাই-বাছাই করে বাজারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু বিএসইসি ও ডিএসই ভালো করে যাচাই-বাছাই করতে না পারলে খারাপ মানের কোম্পানিগুলো বাজারে আসবে। তখন ওইসব কোম্পানি কয়েকদিন ভালো করলেও বছরের পর বছর খারাপ করতে থাকে। এতে করে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গত আট বছর ধরে যেসব কোম্পানি বাজারে আসছে সেসব কোম্পানির করপোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে বস্ত্র খাত নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অন্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় যেসব কোম্পানি বড় হয়েছে, তারা ওই দেশের বাজার থেকে টাকা তুলে বড় হয়েছে। যেখানে দেশের অর্থনীতির গ্রোথ আট দশমিক ১৩ শতাংশ ও বাজেট গ্রোথও অনেক ভালো। কিন্তু পুঁজিবাজার তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

রায়হান এম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া বাজার ভালো করা যাবে না। বর্তমান বাজার শুধু ইকুইটি নির্ভর। এ ইকুইটি নির্ভরশীলতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে বন্ড, ডেরিভেটিফ পণ্য এবং ভালো মানের মিউচুয়াল ফান্ড আনতে হবে। যদি এ বিষয়গুলোর প্রতি নজর না দেওয়া হয় তাহলে এ মুহূর্তে বাজার ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আইসিবি গঠন করা হয়েছে পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল অবস্থানে রাখার জন্য। যখন বাজারে খারাপ অবস্থা বিরাজ করে তখন আইসিবির উচিত সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু সাম্প্রতিক আইসিবির যে আচরণ সেটা বাজারের জন্য ইতিবাচক মনে হচ্ছে না। তাই আইসিবির মতো বিকল্প আরেকটি প্রতিষ্ঠান করা যায় কি নাÑসেটা ভেবে দেখা উচিত। ভারত, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে আইসিবির মতো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারকে ভালো করতে হলে সত্যিকারভাবে আইসিবিকে ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইসিবির বাজারের প্রতি যে ভূমিকা থাকা দরকার সেটা কেন পালন করতে পারছে না বা সমস্যা কোথায় সেটা সরকারের ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। যেহেতু আইসিবি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে