ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

ব্যাংক খাত রক্ষায় সরকারের নানা প্রয়াস

২০১৯ এপ্রিল ১৭ ১৪:০৮:০৭
ব্যাংক খাত রক্ষায় সরকারের নানা প্রয়াস

অনিয়ম, অব্যস্থাপনা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে নাজুক অবস্থায় পড়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। মূলধনও খেয়ে ফেলেছে অনেক ব্যাংক। উচ্চ সুদহার আর তারল্য সঙ্কটে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে। ফলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গলার কাটা এখন ব্যাংক খাত। চলমান এ সমস্যা উত্তরণে নানা ফাঁক ফোঁকর খুঁজছে সরকার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মন্ত্রী হওয়ার পরই ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে কঠোর হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সংস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ব্যাংক খাতই এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ খাতের সমস্যা দূর করতে ব্যাংক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

সর্বশেষ ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে বসন্তকালীন সভার প্রথম দিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এ দুর্বলতা কাটাতে আমরা আইএমএফের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

নতুন অর্থমন্ত্রী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে খেলাপির বিষয়ে শর্ত জুড়ে দেন। তিনি বলেন, বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোনো কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। এর পর তৎপরতা শুরু করে বেসরকরি ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা। কীভাবে খেলাপি ঋণ কমানো যায়, তার কৌশল নির্ণয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন পরিচালকরা। এদিকে সরকারের চাপে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও। নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এছাড়া বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারের নানা উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাত-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশে ঋণ খেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী বলছেন, ঋণখেলাপিদের ঋণ পরিশোধের অর্থাৎ ঋণখেলাপি থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ করে দিচ্ছি। তবে এ সুযোগ অবশ্যই ‘ভালো’ ঋণখেলাপিদের জন্য।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে দুই ধরনের ঋণগ্রহীতা আছে; ভালো এবং অসাধু ঋণগ্রহীতা। ভালো ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের জন্য আমরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছি।

নানা সমালোচনার মধ্যেও ঋণখেলাপিদের সুযোগ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা আসতে যাচ্ছে পুনর্গঠিত ঋণসহ যে কোনো ঋণ পুনঃতফসিল এবং খেলাপি ঋণ হিসাবায়নে। এছাড়া ডাউন পেমেন্টের বর্তমান হারও কমানো হবে।

বর্তমানে কোনো ঋণ তিন মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ৬ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সন্দেহজনক এবং ৯ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মন্দ (খেলাপি) হিসেবে শ্রেণীকরণ করে। এসব ঋণ মান নির্ধারণে প্রতি পর্যায়ে সময় বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ তিন মাসের পরিবর্তে ৬ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ১২ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সন্দেহজনক এবং দেড় বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা মন্দমান (খেলাপি) হিসেবে শ্রেণীকরণ করবে। শ্রেণীকরণের এ প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। এটি কার্যকর হলে খেলাপিরা বাড়তি সুবিধা পাবে। ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে বাড়তি সময় পাবে।

অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কারের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকার ব্যাংক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বিভিন্ন ফাঁক ফোঁকর খুঁজছে। এসব সংস্কার করে কাগজে-কলমে ব্যাংক খাত ভালো করতে পারলেও বাস্তবে নেতিবাচক ছাড়া এর ইতিবাচক কোনো ফল আসবে না।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক কথাবার্তা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।

শেয়ারবার্তা / মামুন

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে