ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

লেনদেন শুরুর অপেক্ষায় নতুন দুই কোম্পানি

২০১৯ এপ্রিল ১৬ ১১:০৮:৫৩
লেনদেন শুরুর অপেক্ষায় নতুন দুই কোম্পানি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় পুঁজিবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন শুরুর অপেক্ষায় আছে ২ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো- রানার অটোমোবাইলস ও নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে শেয়ার বরাদ্দের মধ্যে দিয়ে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রানার অটোমোবাইলস ও নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড। কিন্তু পুঁজিবাজারের লেনদেন মন্দায় অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করায় এখনও লেনদেন শুরু অনুমোদন পায়নি কোম্পানিগুলো। তবে, বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে অতিদ্রুত বাজারে লেনদেন শুরু করবে কোম্পানিগুলো।


রানার অটোমোবাইলস :

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে ২৫ মার্চ (সোমবার) বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ বিও হিসাবে শেয়ার বরাদ্দ করেছে রানার অটোমোবাইলস। এর আগে গত ৪ মার্চ সকাল ১০টায়, এজিবি কলোনি, মতিঝিল, ঢাকায় এ কোম্পানির আইপিও লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিটির আইপিও আবেদন চলে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৬৩তম কমিশন সভায় কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

রানার ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৮টি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টি শেয়ার ৭৫টাকা করে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। অবশিষ্ট ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ১৫টি শেয়ার ৬৭ টাকা করে (৭৫ টাকা থেকে ১০ শতাংশ কমে) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট ইস্যু করা হবে।

এর আগে গত বছরের ১০ জুলাই কমিশনের ৬৫০তম সভায় রানার অটোমোবাইলকে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও) এর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি বা বিডিংয়ের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরপর গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা বিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বিডিংয়ে কোম্পানিটির শেয়ারের কাট অফ প্রাইস ৭৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছিল। আইপিও’র টাকা দিয়ে কোম্পানিটি গবেষণা ও উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচে ব্যয় করবে।

গত পাঁচ বছরে ভারিত গড় হরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩.৩১ টাকা। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা।

কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।


নিউ লাইন ক্লোথিংস :

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে আজ, ১৫ এপ্রিল (সোমবার) বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ বিও হিসাবে শেয়ার বরাদ্দ করেছে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড। এর আগে ২৪ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিটিউটে লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

গতবছরের ২৭ নভেম্বর বিএসইসির ৬৬৭তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিউলাইন ক্লথিংস আইপিও’র মাধ্যমে বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এজন্য কোম্পানিটিকে ১০ টাকা ইস্যু মূল্যের ৩ কোটি সাধারণ শেয়ার আইপিও’র মাধ্যমে ইস্যু করে।

আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলিত ৩০ কোটি টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় এবং কারখানা ভবন সম্প্রসারণ, মেয়াদী ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও বাবদ খরচ করবে।

৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী পুনঃমূল্যায়নসহ প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৩১.৬৩ টাকা। আর সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া এনএভি হয়েছে ২০.৫২ টাকা। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৮৫।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সন্ধানী লাইফ ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেড।


শেয়ারবার্তা / মামুন

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে