ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

পুঁজিবাজারে তারকা ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরাও বড় দুশ্চিন্তায়

২০১৯ এপ্রিল ১৪ ১২:১৬:৪৬
পুঁজিবাজারে তারকা ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরাও বড় দুশ্চিন্তায়

পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত তারকা ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা অন্যান্য ব্যাংকগুলোর চেয়ে বরাবরই ভালো। মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসাবে কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশও সন্তোষজনক। পাশাপাশি শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত, শেয়ারপ্রতি সম্পদ, শেয়ারপ্রতি আয়েও এগিয়ে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। যে কারণে এসব ব্যাংক অভিজাত প্রতিষ্ঠান বা তারকা ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ফলে এসব ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাও বেশি। কিন্তু গত দু্ই বছর যাবত ব্যাংক খাতে মন্দা হাওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ইবিএলসহ অন্যান্য সব তারকা ব্যাংকের গায়েও বিপর্যয় নেমেছে। এ কারণে মহা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এসব ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরাও।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, এসব তারকা ব্যাংকে বিনিয়োগ করে গত দুই বছরে (সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দরের ভিত্তিতে) বিনিয়োগকারীদের লোকসান হয়েছে ৪২ শতাংশ থেকে ১৩৭ শতাংশ পর্যন্ত। গত দুই বছরে ইস্টার্ন ব্যাংকে পুঁজি বিনিয়োগ করে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। গত দুই বছরের মধ্যে একটা পর্যায়ে এ শেয়ারের দর উঠে ৫৯ টাকা, এখন যা ৪০ টাকায় নেমে এসেছে।

এদিকে সিটি ব্যাংকে বিনিয়োগ করে লোকসান বিনিয়োগকারীদের হয়েছে ১৩৭ শতাংশের বেশি। দুই বছরের মধ্যে এই শেয়ার দর ৫৭ টাকার বেশি উঠেছিল। এখন এর শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ২৪ টাকার ঘরে। ব্যাংকটির বিনিয়োগকারীরা এখন প্রায় দিশেহারা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সিটি ব্যাংকের পদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, অনেকদিন ধরে মার্কেট কারেকশন হচ্ছে, যে কারণে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে ব্যাংক খাতে। অন্যদিকে আগের চেয়ে অধিকাংশ ব্যাংকের পারফরম্যান্স কমে গেছে। দর কমার এটাও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। তবে আশা করা যায় খাতটি এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে।

গত দুই বছরে অন্য প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ওঠানামা করে ৩৯ টাকা থেকে ২৩ টাকার মধ্যে। যারা এই দরে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন তাদের প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে গত দুই বছরের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার সর্বোচ্চ ১১৪ টাকার বেশি লেনদেন হয়, একটা সময় যা ৬৪ টাকায় নেমে আসে। অর্থাৎ ১১৪ টাকায় কিনে যারা ৭০ টাকা নিচে শেয়ারটি বিক্রি করছেন, তাদের লোকসান হয়েছে ৬৩ শতাংশের বেশি।

তবে সম্প্রতি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক বড় অংকের বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করায় এর শেয়ার দরে ঊর্ধ্বগতি এসেছে। এ কারণে এর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আনন্দের মধ্যে রয়েছেন। তবে যারা রেকর্ড ডেটের আগে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনেছেন, তারা এখন কিছুটা লোকসানে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব তারকা ব্যাংকে বিনিয়োগ করেও প্রতিনিয়ত লোকসানের হিসাব কষতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। কাজে আসছে না মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনো সমীকরণ। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, মৌলভিত্তির এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে এখন তাদের পুঁজি প্রায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের হার লক্ষ করলে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোর শেয়ার দর যেভাবে কমেছে, নানা্ দুর্যোগ থাকার পরও এখাতে কোম্পানির লভ্যাংশ সেহারে কমেনি। বরং কিছু কিছু ব্যাংকের লভ্যাংশ বেড়েছে বা প্রায় সমান রয়েছে। তারপরও ব্যাংকগুলোর শেয়ার দরে বিপর্যয় থামেনি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, একটি সেক্টর যখন খারাপ করে তখন ওই সেক্টরের ভালো কোম্পানিতেও এর প্রভাব পড়ে। বেশ কিছুদিন যাবত ব্যাংক সেক্টরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যে কারণে ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও নিম্নমুখী রয়েছে।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে