ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

লোকসানি ইউনিটকে শতভাগ রপ্তানিমুখী করবে সিনোবাংলা

২০১৯ এপ্রিল ১৪ ০৯:৫৭:৩৫
লোকসানি ইউনিটকে শতভাগ রপ্তানিমুখী করবে সিনোবাংলা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিধ খাতের কোম্পানি সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রির ইউনিট-১ কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। এটিকে মুনাফায় আনতে শতভাগ রপ্তানমুখী করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তাই রপ্তানি সুবিধা পেতে বন্ড লাইসেন্স করবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, সিনোবাংলার আরেকটি কারখানা ইউনিট-২ বন্ড লাইসেন্স নিয়ে উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করছে। আর এই ইউনিটের আয় দিয়ে কোম্পানিটি চলছে। ২০১১ সালে পুঁজিবাজার থেকে রাইটের মাধ্যমে পুঁজি নিয়ে এই ইউনিট-২ এর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিএমআরই প্রকল্প করে ইউনিট-২ এর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ইউনিট-২ এর উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি মাসে ১৫০ টন করে বছরে ১৬৮০ টন বাড়িয়েছে। এছাড়া মিডিয়াম ও হাই স্যাগমেন্ট এফআইবিসির উৎপাদনের জন্য আরো ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংক ঋণ করে এই টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।

এদিকে, কোম্পানিটির ইউনিট-১ কারখানা দিয়ে প্রথমে কেবল দেশিয় বাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করে। এ কারখানাটির পণ্য রপ্তানির অনুমতি ছিল না। কিন্তু দেশিয় বাজারে এর উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে মন্দাভাব দেখা দেয়ায় তারা রপ্তানিমুখী উৎপাদনে মনযোগ দেয়। আর লোকসান গুনতে থাকায় ইউনিট-১ এর উৎপাদন ২০ শতাংশে নামিয়ে দেয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এই ইউনিট-১ কে মুনাফায় আনতে শতভাগ রপ্তানিমুখী করতে চায় কর্তৃপক্ষ। তাই এর সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ড লাইসেন্স পেতে কাগজপত্র ঠিক করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ড লাইসেন্সের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আবেদন করা হবে।

এই বিষয়ে কোম্পানির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানির ইউনিট-১ লোকসানে রয়েছে। একে মুনাফায় আনতে শতভাগ রপ্তানিমুখী করা হবে। এরজন্য কারখানাটির সংস্কার কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আর রপ্তানি সুবিধা পেতে বন্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হবে। আর লাইসেন্স পেলে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ইউনিট-২ ভাল মুনাফা করছে। এর সঙ্গে ইউনিট-১ এর মুনাফা যোগ হলে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ভাল ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।

শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে। তবে এর মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতে হবে। রপ্তানির পর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ডিউটি ড্রব্যাক বা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২৫ শতাংশ ক্যাশ বেনিফিট পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে ইউনিট-১ থেকে লোকসান হয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে লোকসান হয়েছিল ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। আর এই লোকসান সমন্বয় করতে গিয়ে কোম্পানিটি ইউনিট-২ থেকে ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা মুনাফা করলেও সমন্বিত মুনাফা ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা দেখাতে পেরেছে। আলোচিত বছরে তারা শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে।

২০১৮-২০১৯ হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৮) কোম্পানির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৯ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৬৩ টাকা।

চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গঠিত কোম্পানিটি ১৯৯৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

শেয়ারবার্তা / মামুন

কোম্পানী সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে