ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

এস্কয়্যার নিটে আস্থা রাখতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা

২০১৯ এপ্রিল ১৩ ১২:৪৫:১০
এস্কয়্যার নিটে আস্থা রাখতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা

উচ্চ প্রিমিয়ামে পুঁজিবাজারে আসা এস্কয়্যার নিটের শেয়ারে আস্থা রাখতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। অভিষেকের দিন থেকেই কোম্পানিটির শেয়ার দরে পতন প্রবণতা ভর করেছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর নিয়ে এক ধরনের আতঙ্কে বিরাজ করছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এদিকে, বাজার সংশ্লিষ্টরাও এ মুহুর্তে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিষেকের দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর কাট-অফ প্রাইসের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করলেও পরের দিন থেকে এর শেয়ার দর কাট-অফ প্রাইসের নিচে চলে যায়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর কাট-অফ প্রাইস ৪৫ টাকা থেকে ৪.৬৬ শতাংশ কমে ৪২.৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ৪৫ টাকা কাট-অফ প্রাইসের এস্কয়্যার নিটের লেনদেন শুরু হয়। প্রথমদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এর শেয়ার দর ক্লোজিং হয় ৪৫.৯০ টাকা। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এর দর কাট-অফ প্রাইসের নিচে নেমে যায়। পরেরদিন বুধবার ডিএসইতে এর দর ক্লোজিং হয় ৪৩.৩০ টাকায় এবং তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার ক্লোজিং দর দাঁড়ায় ৪২.৯০ টাকায়। অর্থাৎ এখন উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে এর শেয়ার দর ৪৩ টাকার নিচে নেমে গেছে।

এস্কয়ার নিটের আগে দেশের পুঁজিবাজারে উচ্চ প্রিমিয়ামে তালিকাভুক্ত হওয়া কোনো কোম্পানির শেয়ার দর লেনদেনের প্রথমদিন থেকে এভাবে পতন ঘটেনি।

এর আগে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে উচ্চ প্রিমিয়ামে পুঁজিবাজারে আসা একমি ল্যাবরেটরিজ, আমান কটন ফাইবার্স, বসুন্ধরা পেপার, এমআই সিমেন্ট, এমজেএল, আরএকে সিরামিকের শেয়ার দর কাট-অফ প্রাইসের নিচে নেমে এসেছে। তবে এসব কোম্পানিরশেয়ার দর অভিষেকের অনেকদিন পর কাট-অফ প্রাইসের অনেক নিচে নেমেছে। বর্তমানে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কাট-অফ প্রাইসের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে বেচাকেনা হচ্ছে। এসকোয়্যার নিট কম্পোজিটের ক্ষেত্রেও সেরকম হবে বলে আশঙ্কা করছে বিনিয়োগকারীরা। তাই ঝুঁকিপূর্ণ দরে কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে সাহস পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা-এমনটি মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বাজার বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও ইস্যু ম্যানেজারের যৌথ কারসাজিতে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তৈরি করা প্রসপেক্টাস দিয়ে উচ্চ প্রিমিয়ামে টাকা তুলে নিচ্ছে দুর্বল মৌলের কোম্পানিগুলো। এ কারণে আমান কটন ফাইবারর্স, একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, এমজে এল বাংলাদেশ লিমিটেড, এম আই সিমেন্ট ও আরকে সিরামিক লিমিটেডের শেয়ার দর এখন কাট-অব প্রাইসের নিচে অবস্থান করছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে আসার সময় কোম্পানিগুলো যে দরে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলেছে, এখন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর সেই দরের অনেক নিচে লেনদেন হচ্ছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট আটটি কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানির শেয়ার দর কাট-অব প্রাইসের নিচে চলে এসেছে। যা শতাংশের হিসেবে ৭৫ শতাংশ। তালিকাভুক্ত হওয়ার পরপরই এই করুণ পরিণতির পেছনের কারণ পুঁজিবাজারে আসার সময় কারসাজির মাধ্যমে শেয়ার দর অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ব্রোকারেজ হাউজ, কোম্পানি ও মার্চেন্ট ব্যাংকাররা। স¤প্রতি দুটি কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আইনি দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে কারসাজি চক্র সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আমান কটন ফাইবার্স : ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ৪০ টাকা দরে দুই কোটি আট লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে আমান কটন ফাইবার্স লিমিটেড। কোম্পানির লেনদেন শুরু হয় গত বছরের ১৫ মে। গত ১১ এপ্রিল তা নেমে আসে ৩২.৫০ টাকায়।

একমি ল্যাবরেটরিজ : ওষুধ খাতের কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজের কাট-অব প্রাইস ছিল ৮৫.২০ টাকা। গত ১১ এপ্রিল শেয়ারটির সর্বশেষ দাম ছিল ৮০.২০ টাকা। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার থেকে ৪০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে।

মবিল যমুনা (এমজেএল) : ২০১১ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া এমজেএলের কাট-অব প্রাইস ছিল ১৫২.৪০ টাকা। সেখান থেকে প্রতিটি শেয়ারের দাম গত ১১ এপ্রিল নেমে এসেছে ৯৪.৯০ টাকায়।

একই বছর তালিকাভুক্ত হয় সিমেন্ট খাতের আরেক কোম্পানি এম আই সিমেন্ট। সেই সময় শেয়ারটির কাট-অব প্রাইস ছিল ১১১.৬০ টাকা। গত ১১ এপ্রিল শেয়ারটি সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৭০.৬০ টাকায়। এছাড়াও ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া আরকে সিরামিকের শেয়ারের কাট-অব প্রাইস ছিল ৪৮ টাকা। শেয়ারটির দাম গত ১১ এপ্রিল নেমে যায় ৩২.৯০ টাকায়।

এদিকে, ২০১৮ সালে ২ ফেব্রুয়ারি লেনদেন হওয়া বসুন্ধরা পেপারের কাট-অফ প্রাইস ছিল ৮০ টাকা। গত ১১ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর লেনদেন হয়েছে ৬৫.৭০ টাকায়।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে