ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

মন্দার কারণে বিও হিসাব খোলার আগ্রহে ভাটা

২০১৯ এপ্রিল ০৩ ০৬:২২:৫৪
মন্দার কারণে বিও হিসাব খোলার আগ্রহে ভাটা

টানা দরপতন অব্যাহত থাকায় পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, যার জের ধরে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার হার কমে গেছে ৮০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাজারে নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয় ৪০ হাজার। সর্বশেষ মার্চে এসে এর পরিমাণ আট হাজারে নেমে এসেছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মার্চে নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে আট হাজার। এর আগের মাসে নতুন বিও খোলা হয়েছিল ১৯ হাজার। আর জানুয়ারিতে বাজারে যোগ হয় ৪০ হাজার নতুন মুখ।

বিদায়ী বছরে নির্বাচনের পরপরই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। এই সময়ে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার হিড়িক পড়ে। পরে হঠাৎ করেই পুঁজিবাজারে ছন্দপতন দেখা দেয়, যা গত তিন মাস অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বাজারের প্রতি আগ্রহ কমেছে সাধারণ মানুষের। এর প্রভাব পড়েছে বিও অ্যাকাউন্ট খোলায়।

এ প্রসঙ্গে ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, বাজারে নতুন আইপিওর অফার থাকলে সাধারণত বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ে। কিন্তু এখন আইপিওতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। যে কারণে বিও খোলার প্রবণতাও কমেছে। যারা সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য অ্যাকাউন্ট খোলেন তাদের বেলায়ও এর প্রভাব পড়েছে। তবে এটা ঠিক নয়। আমি মনে করি, সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করার সঠিক সময় পতনের বাজার।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মার্চ শেষে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ২০৪টিতে। ফেব্রুয়ারি শেষে যার সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ১৬২টি। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে বিও বেড়েছে আট হাজার ৪২টি।

বর্তমানে যে বিও রয়েছে, তার মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও সংখ্যা ২০ লাখ ৭৫ হাজার ৭২৬টি। একইভাবে নারীদের বিও রয়েছে সাত লাখ ৫৫ হাজার ৫২০টি। আর কোম্পানির বিও রয়েছে ১৩ হাজার ৬৫টি।

গত বছর সময়মতো বিও ফি পরিশোধ না করায় বাতিল হয়ে গেছে প্রায় আড়াই লাখ অ্যাকাউন্ট। সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা পরিস্থিতি, সেই সঙ্গে আইপিও বাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য এসব অ্যাকাউন্ট ঝরে গেছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

নিয়মানুযায়ী, জুন মাসে বিও ফি পরিশোধ না করলে সেসব অ্যাকাউন্ট এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যেসব হিসাবে শেয়ার কিংবা টাকা থাকে, সেসব হিসাব বন্ধ হয় না।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩-এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাবরক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়। এর আগে পঞ্জিকাবর্ষ হিসেবে প্রতি বছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেওয়া হতো। তবে ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময়ে বিও নবায়ন ফি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। এরপর বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও হিসাব নবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। না হলে তা বাতিল করা হবে বলে ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল। বর্তমানে বিও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ টাকা।

মূলত ২০১০ সালের পর থেকে বিও অ্যাকাউন্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। বর্তমানে মোট বিও অ্যাকাউন্টের অর্ধেকের বেশি হচ্ছে শেয়ারশূন্য। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে মোট বিওর মধ্যে শেয়ারশূন্য এবং ব্যবহার করা হচ্ছে না এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি।

শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে