ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া ব্যাংক খাত রক্ষা কঠিন

২০১৯ এপ্রিল ০২ ০৬:০৫:০২
আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া ব্যাংক খাত রক্ষা কঠিন


গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। আইনের সঠিক প্রয়োগ না হলে এ খাতকে রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে। সোমবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ই-সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবির।

মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কস্ট অব ফান্ড, কস্ট অব ম্যানেজমেন্ট এবং মুদ্রাস্ফীতি রেট প্রভৃতি হিসাব করলে ব্যাংক খাতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১১ শতাংশের নিচে ঋণ দিলে ওই ব্যাংক কোনো প্রফিট করতে পারবে না। অতএব ব্যাংক খাত ধ্বংস কারও কাম্য নয়। সরকারকে ব্যাংকে কম সুদের অর্থ সরবরাহ করতে হবে। অর্থাৎ যদি ডিপোজিট পাঁচ ও সাত শতাংশ হারে সংগ্রহ করে তাহলে আট ও ১০ শতাংশ হারে ঋণ দিতে পারে। এতে ব্যাংকের কোনো সমস্যা হবে না। তাদের বিভিন্ন ধরনের খরচ রয়েছে। কাজেই কম মুনাফা হলেও অন্তত একটা ভারসাম্য রাখতে হবে। বর্তমানে ঋণ নেওয়ার অনেক ঝুঁকি রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকবার ঋণখেলাপিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা ঋণ নিয়ে ফেরত দেবেন না, তাহলে ব্যাংকের সুদ কীভাবে কমাবে? এখানে প্রথম বিবেচনায় আনতে হবে কীভাবে ব্যাংক থেকে কম খরচে অর্থ সরবরাহ করা যায়। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে ঋণ দিলে সেটা অবশ্যই ফেরতযোগ্য। এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে বাদ দিতে হবে। কারণ এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কোনো মতে কাম্য নয়। এখানে ব্যক্তি স্বার্থকে জায়গা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ব্যাংক খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির কাছে জিম্মি। ব্যাংক খাতে এ রকম অবস্থা আসলেই হতাশাজনক।

তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালের শেষের দিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। আইনের সঠিক প্রয়োগ না হলে এ খাতকে রক্ষা করা যাবে না।

ড. আহমেদ আল কবির বলেন, ব্যাংকগুলোর ডিপোজিট সংগ্রহে খরচ কমাতে হবে। এটার জন্য ব্যাংকের একটা পরিকল্পনা থাকতে হবে। ব্যাংকগুলোকে অধিকসংখ্যক ডিপোজিটর আনার চেষ্টা করতে হবে। শুধু বড় ডিপোজিট দিয়ে ব্যাংক পরিচালনা করা হলে সেটি নিরাপদ হবে না। কারণ বড় ডিপোজিটররা এক সঙ্গে অনেক টাকা জমা রাখেন আবার একসঙ্গে সে পরিমাণ টাকা তুলে নেন। আর বড় ডিপোজিটররা দীর্ঘসময়ের জন্য টাকা জমা রাখেন না। তারা আজ ব্যাংকে টাকা জমা দেবেন কাল আবার তুলে নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। এখানে ব্যাংকগুলোর গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা উচিত। খুব কম ব্যাংকের এ পরিকল্পনা রয়েছে। আবার ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংক সম্পর্কিত যে আইনগুলো রয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে।

শেয়ারবার্তা /

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

উপরে