ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬

প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে লাগাম টানতে চায় ডিএসই

২০১৯ মার্চ ২৩ ২০:৫১:২১
প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে লাগাম টানতে চায় ডিএসই

প্লেসমেন্ট ব্যবসার দৌরাত্ম্য কমাতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সাধারণের বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সব প্লেসমেন্ট শেয়ারে অন্তত তিন বছরের লক-ইন আরোপের প্রস্তাব করেছে স্টক এক্সচেঞ্জটি। লক-ইনের সময়কাল আইপিও প্রসপেক্টাস অনুমোদনের দিনের পরিবর্তে তালিকাভুক্তির দিন থেকে গণনার পরামর্শ তাদের।

ডিএসই এমন বিধিনিষেধ আরোপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে প্রস্তাব পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ডিএসইর নেতারা জানান, শিগগির সুপারিশ আকারে এসব প্রস্তাব বিএসইসির কাছে পাঠানো হবে। এমন বিধিনিষেধ পরবর্তী আইপিও থেকে আরোপের পক্ষপাতী তারা।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞাকালকে লক-ইন বলে এ সময়সীমা গণনা শুরু হয় প্রসপেক্টাস অনুমোদনের দিন থেকে। বর্তমানে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সবার শেয়ারের ওপর তিন বছরের লক-ইন রয়েছে। এর বাইরে অন্য কারও কাছে প্লেসমেন্ট শেয়ারের পরিমাণ ৫ শতাংশের কম হলে এক বছরের লক-ইন থাকে।

বিএসইসি ২০১৭ সালের আগস্টে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বাইরে ৫ শতাংশের কম শেয়ারধারীদের শেয়ারের ওপর লক-ইন এক বছর করে। এর আগে প্রসপেক্টাস অনুমোদনের সময়কালের আগে শেয়ার কেনার সময়ের ভিত্তিতে যা ছিল তিন ও দুই বছর। এ ক্ষেত্রে শেয়ার ধারণের সময়-সংক্রান্ত বিধান তুলে নেওয়া হয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, এরপরই শেয়ারবাজারে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাত্রা বেড়ে যায়, যা বর্তমানে রমরমা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় শুধু উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বা প্লেসমেন্ট শেয়ারের ওপর নয়, তালিকাভুক্তির পর তিন বছর পর্যন্ত এসব শেয়ারের বিপরীতে বোনাস শেয়ারের ওপরও একইভাবে লক-ইন আরোপ চান স্টক এক্সচেঞ্জটির নেতারা।

ডিএসইর পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে আরও কিছু সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়। এর একটি হলো- লক-ইন সময়সীমা শেষে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা ঘোষণা দিয়ে শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। তবে তা বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ঘোষণার ১৫ দিন পর তা কার্যকর করা যাবে। তা ছাড়া উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচার শুধু ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপেরও প্রস্তাব করবে ডিএসই। প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে লাগাম টানতে ডিএসই

আইপিও অনুমোদনের আবেদন পাওয়ার অন্তত তিন বছর আগে কোনো কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির রেকর্ড থাকতে পারবে না- এমন বিধান তৈরির প্রস্তাবও করবে। এ ছাড়া প্রাইভেট প্লেসমেন্টে সর্বোচ্চ শেয়ার বিক্রির সীমা আরোপও চায় তারা।

এসব নিয়ন্ত্রণ আরোপের যৌক্তিকতার বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, প্লেসমেন্ট বাণিজ্য শেয়ারবাজারের স্বাস্থ্যহানি করছে। এর মাধ্যমে কিছু লোক রাতারাতি বিপুল অঙ্কের মুনাফা তুলে নিচ্ছে। এতে বাজারে তারল্য সংকট তৈরি হচ্ছে।

যে কোম্পানি প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি করে ১০ কোটি টাকার মূলধন ৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে পারে, সেটির আইপিওর মাধ্যমে ১৫ থেকে ২৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের দরকার কী- এমন প্রশ্ন তুলে ডিএসইর এ পরিচালক আরও বলেন, এসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে শেয়ারবাজারের চেয়ে ওই কোম্পানির মালিকদের এবং প্লেসমেন্ট ব্যবসায়ীদের লাভ হয় বেশি। নিজেদের প্লেসমেন্ট শেয়ার উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতে তারা শেয়ারবাজারে আসছে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।

ডিএসইর পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, প্রসপেক্টাস অনুমোদনের দিন থেকে লক-ইন হিসাব করায় তালিকাভুক্তির কয়েক মাসের মধ্যে প্লেসমেন্ট শেয়ারের লক-ইন উঠে যায়। কারণ, শেয়ার বিক্রি ও তালিকাভুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে মাঝে কিছু সময় চলে যায়। এ কারণে আইপিওর পাশাপাশি প্লেসমেন্ট শেয়ারসহ বিপুল অঙ্কের শেয়ার হঠাৎ করে লক-ফ্রি হয়। এতে শেয়ার বিক্রির চাপ থাকায় সংশ্নিষ্ট শেয়ার লাগাতার দর হারায়। এতে ক্ষতি হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তালিকাভুক্তির দিন থেকে হলে তা আর হবে না।

বোনাস শেয়ারের ওপর লক-ইন আরোপের কারণ ব্যাখ্যায় ডিএসইর আরেক পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, কিছু কোম্পানি অযথা নগদ লভ্যাংশের বদলে বোনাস শেয়ার দিয়ে মূলধন বাড়াচ্ছে। এ মূলধন ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করছে এমন নয়। তাই নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি।

প্রাইভেট প্লেসমেন্টে যেসব কোম্পানি বড় মূলধন সংগ্রহ করেছে, তারা তা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করেছে কি-না, তা নিশ্চিত হয়ে আইপিও অনুমোদনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রকিবুর রহমান।

কোনো কোম্পানির অধিক মূলধনের প্রয়োজন হলে তা আইপিওর মাধ্যমে বাড়িয়ে নেওয়ার পরামর্শ তার। তিনি বলেন, আইপিওতে শেয়ার চাহিদা ২০ থেকে ৫০ গুণ। তাই অযথা প্লেসমেন্ট বা বোনাসের কারণে কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। এমন প্রবণতায় পুরো শেয়ারবাজার রুগ্‌ণ হচ্ছে। তাই ডিএসইর প্রস্তাবগুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে বিএসইসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ারবার্তা / মামুন

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

উপরে