ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

আইপিও অনুমোদনে বস্ত্র খাতের ছড়াছড়ি

২০১৯ মার্চ ২০ ০৬:৫৮:৫৬
আইপিও অনুমোদনে বস্ত্র খাতের ছড়াছড়ি

পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে বস্ত্র খাতের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচেছ। অন্য খাতের তুলনায় এ খাতে লোকসানি কোম্পানির সংখ্যাও বেশি। তালিকাভুক্তির পর বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তারপরও এ খাতের কোম্পানির প্রতি আস্থা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত পাঁচ বছরে (২০১৪ থেকে ২০১৮) মোট ৬৪ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তি ঘটে। এর মধ্যে শুধু বস্ত্র খাতের কোম্পানি ২৫টি। সম্প্রতি সময়েও এ ধরনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোম্পানি এগিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে মোট ৫৩টি। এর মধ্যে আর্থিক অবস্থা দুর্বল ১০টি প্রতিষ্ঠানের। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে রয়েছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে থাকা ২২ খাতের ফান্ড ও কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি রয়েছে এ খাতে। এসব কোম্পানির বছরের পর বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোনো রিটার্ন দিতে পারছে না।

অন্যদিকে বাজারে এসব শেয়ারের চাহিদা না থাকার কারণে অভিহিত দরের নিচে অবস্থান করছে ১২ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। বস্ত্র খাতের এসব কোম্পানিতে কারসাজির ঘটনাও বেশি ঘটে। সম্প্রতি এ খাতের কয়েকটি কোম্পানি তালিকাচ্যুত হওয়া ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েকটি কোম্পানির শিগগিরই মালিকানা বদল হবে পুঁজিবাজারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে।

এদিকে বস্ত্র খাতের কোম্পানির বোনাস শেয়ার দেওয়ার হারও বেশি। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এ খাতের বেশিরভাগ কোম্পানিই শুরু থেকেই বোনাস শেয়ার ইস্যু করে। সে তুলনায় তাদের ব্যবসা বাড়ে না বা প্রতিষ্ঠানের কাক্সিক্ষত উন্নয়নও হয় না। যার ফলশ্রুতিতে আগ্রহ কমতে থাকে এসব শেয়ারের। শুরু হতে থাকে দরপতন। ফলে এখানে যাদের বিনিয়োগ থাকে তারা লোকসানের মুখে পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যখন একটি খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের অবস্থা নাজুক হয় তখন বিএসইসির উচিত ওই শ্রেণির কোম্পানির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে একটু হিসাবি হওয়া। নতুন ইস্যু আনতে হবে এটা ভেবে কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার চেয়ে না হওয়া অনেক ভালো। এতে পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগকারী উভয়ই উপকৃত হয়।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হচ্ছেন বস্ত্র খাত থেকে। এ খাতের বেশিরভাগ কোম্পানি পুঁজিবাজার হতে ১৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর আগে তারা ইচ্ছেমতো প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে। আর কোম্পানি বাজারে আসার পর বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বাজারে থেকে সরে পড়ে। ফলে এসব শেয়ার নিয়ে বিপাকে পড়ে যান সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাই বিএসইসির এ ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া উচিত।

অন্যদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, ইস্যু ম্যানেজাররা তাদের কাক্সিক্ষত কোম্পানির কাগজপত্র নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। আমরা কমপ্লায়েন্স দেখি, কাগজপত্র দেখি। এরপর সব ঠিকই থাকলেই শুধু প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন মেলে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোনো খাতের এটা বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

শেয়ারবার্তা / মামুন

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে