ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

প্লেসমেন্ট শেয়ারে থেকে চলে যাচ্ছে পুঁজিবাজারের অর্থ

২০১৯ মার্চ ১৯ ০৭:০৮:০৭
প্লেসমেন্ট শেয়ারে থেকে চলে যাচ্ছে পুঁজিবাজারের অর্থ

বর্তমানে দেশে অর্থনীতির সব সূচকই রয়েছে ইতিবাচক অবস্থানে। রাজনৈতিক অবস্থা ভালো, ভালো রয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থা, পুঁজিবাজারে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ছে। কিন্তু তারপরও পুঁজিবাজারের মন্দা পরিস্থিতি কাটছে না। এর প্রধান কারণ প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যামে বাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সোমবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে আইসিএবির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হোসেনের আলোচনায় বিষয়টি ওঠে আসে। হাসিব হাসানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান।

মাহমুদ হোসেন বলেন, কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করছে। এরপর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে শেয়ারদর। ১০ টাকার শেয়ার ৫০ টাকা ১০০ টাকার বা তার বেশি দরে বিক্রি করে বাজার থেকে চলে যাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তিনি বলেন কোম্পানিগুলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে তালিকাভুক্তির পর আর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে দায়ভার কাঁধে নিতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। কারসাজি শুধু সেকেন্ডারি মার্কেটেই হয় এমনটি ঠিক নয়, প্লেসমেন্ট বিক্রির মধ্যে দিয়ে প্রাইমারি মার্কেটেও কারসাজি হচ্ছে। কোম্পানি যাদের কাছে প্লেসমেন্ট বিক্রি করছে সে অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে যোগ হচ্ছে কি না তা সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত। এসব রোধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাজারে ভালোমানের শেয়ারের অভাব রয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে যে সব কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হচ্ছে সেই সব কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ মিটিয়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ২০১০ সালে প্লেসমেন্টের জন্য বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় প্লেসমেন্টধারীরা শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে বাজার পতনে। অর্থনীতির সব সূচক এখন ভালো অবস্থানে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের এমন নাজুক পরিস্থিতি কাম্য নয়। বাজার নিয়ে কেউ খেলছেন কি না সেটাও দেখা উচিত। সম্প্রতি আইসিবি ২০০০ কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ করেছে সেই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হচ্ছে কি না সেটা দেখা দরকার। পাশাপাশি আন্ডার কোয়ালিটির আইপিওর অনুমোদন বন্ধ রাখা জরুরি। কারণ যারা এসব কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনেন তারাই পরবর্তীতে কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে নিজের শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে সরে পড়েন। বিএসইসির এসব বিষয়ে আরও তীক্ষ নজরদারি করা দরকার।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে