ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

ব্যাংক ঋণের উপর চক্রবৃদ্ধি সুদ বন্ধের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

২০১৯ মার্চ ১৯ ০৬:৫৮:৫৯
ব্যাংক ঋণের উপর চক্রবৃদ্ধি সুদ বন্ধের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি হওয়ার পেছনে ব্যাংকগুলোর চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ অনেকটা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অতিরিক্ত সুদের বোঝা কমাতে সব ধরনের ঋণে সরল সুদ ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রাষ্টায়ত্ত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সোমবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণে লাগাম টানার নির্দেশ দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক হিসাবে সুদ আরোপ করে ব্যাংক। এতে কোনো ঋণের সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারিত থাকলেও তা চক্রবৃদ্ধিহারে বেড়ে যায়। ফলে ঋণের সুদের পাশাপাশি আরোপিত সুদে চাপা পড়ে গ্রাহক। এ অবস্থায় ব্যাংক ঋণের সুদহারে সরলিকরণের প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ থাকবে না। এখন থেকে সুদহারে সরলিকরণ করা হবে। যোগ্যদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। চাকরি নেই এমন লোকদের কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালক করতে চাই না।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে বার্ষিক যে নিরীক্ষা হয়, তার বাইরেও আমরা একটি বিশেষ অডিট করব। ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্সশিটে যা দেখানো হয়, তা প্রকৃত অর্থে আছে কি না-তা যাচাই করার জন্য এ অডিট করা হবে।

খেলাপি গ্রাহকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে দু’পক্ষ দায়ী। যিনি অসাধু ব্যবসায়ী তিনি দায়ী আর তাকে যারা সাহায্য করেছেন, তারাও দায়ী। উভয়ের বিচার করা হবে। আইনে যা আছে, আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

তবে কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকা হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে কষ্ট দেব না। একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা অনেক কষ্টের কাজ। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা অনেক সহজ। আমরা চাই প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে চলুক।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইনসলভেন্সি আইন নেই। নেই অ্যাসেট ম্যাজেনম্যান্ট কোম্পানি। এগুলো আমাদের করতে হবে। তা না হলে আমাদের কোনো বিপদ হলে উপায় নেই। বিশ্বাসের জায়গায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এটি যাতে আবার ফিরে আসে সেই চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, বন্ড মার্কেটকে সচল করা হবে। এ বছরের মধ্যেই এর দৃশ্যমান উন্নতি হবে। ব্যাংক খাতে বড় সমস্যা স্বল্পয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করা। বন্ড মার্কেট সচল করে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করা হবে। আগামী বছর থেকে বন্ড ছাড়া হবে। শক্তিশালী অর্থনীতি যেভাবে চলে আমরা সেভাবে চলবে আমাদের অর্থনীতি।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি ব্যাংক ও বিমা ব্যর্থ হয় না। কারণ এগুলো চাহিদার তুলনায় কম। আমি আবারও বলব, ব্যাংকের সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করা যাবে না। বিদেশের অনেক ব্যাংকের শাখার যে সম্পদ, আমাদের বেসরকারি ব্যাংকের সবগুলো মিলিয়ে সেই সম্পদ নেই। ১৮ কোটি মানুষের জন্য ৬২টি ব্যাংক যথেষ্ট নয়।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যারা ব্যাংকিং বোঝেন, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও চাকরি নেই-এমন ব্যক্তি হলেই আর পরিচালক নন। যারা হিসাব আইন বোঝেন, তাদের পরিচালক করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করবেন না কেউ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের রেগুলেটর হিসেবে কাজ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ দ্বৈত শাসন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, সব কিছুর অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর জন্য কাজ করি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঋণ পুনঃতফসিল করার বিষয় আরও কীভাবে সহজ করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালকদের জবাবদিহিতার বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সুশাসন প্রশ্নে কোনো আপস না করতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ও আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম ্

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে