ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরসিবিসির মানহানি মামলা

২০১৯ মার্চ ১৩ ০৬:৪৩:৩১
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরসিবিসির মানহানি মামলা

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ তোলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) কর্তৃপক্ষ।

তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তারাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য গত ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসিসহ সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, মামলা করলেও এবার তারা বিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন।
তার দুই দিনের মাথায় ৬ মার্চ ফিলিপাইনের সিভিল কোর্টে আরসিবিসি পাল্টা এই মামলা করে বলে গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আরসিবিসি কর্তৃপক্ষ মামলার এজাহারে লিখেছে, ব্যাংকটির কাছ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক বদনাম রটানো, হেনস্তা ও হুমকির ধারা অবলম্বন করে ব্যাপক ও গণহারে আরসিবিসির নামে কলঙ্ক লেপন করছে। এভাবে এর সুনাম, খ্যাতি ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

ব্যাংকটি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্বেষপূর্ণ ও গণ-আক্রমণে আরসিবিসির খ্যাতি ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ইউএস ডলার) দাবি করা হয়েছে মামলায়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউইয়র্ক ফেডে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে একটি বার্তার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি এনজিওর নামে দুই কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে ওই অর্থ তুলতে পারেনি হ্যাকাররা।

বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে আট কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে আরসিবিসির জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি ব্যাংক হিসাবে। অল্প সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। ফিলরেম মানি রেমিটার কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে।

এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মেলেনি।

গত ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘ওই ব্যাংক হিসাবগুলোর ওপর আরসিবিসি এবং এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে জেনেও হিসাব খোলা, বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর এবং পরে হিসাব বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়গুলো তারা ঘটতে দিয়েছেন।’
গভর্নর ফজলে কবির সে সময় বলেছিলেন, চুরি যাওয়া টাকা ফিলিপাইনের কোথায় আছে, তা তাদের জানা আছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে আসামি করেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কিন্তু ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি গত ৪ মার্চ ঢাকায় জানান, ফিলিপাইনের বিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে আজমালুল হোসেন কিউসির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, পরামর্শক দেবপ্রসাদ দেবনাথ ও যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রবও রয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, এমন তথ্য আমরা পত্রপত্রিকা মারফত জানতে পারছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমরা কোনো নোটিস বা সমন কিছুই পাইনি। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনে রয়েছে। আগামীকাল তারা দেশে ফিরে এলে হয়তো আমরা আরও বেশি কিছু বলতে পারব।’

ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাপাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় এক কোটি ৯১ লাখ ডলার জরিমানা করে আরসিবিসিকে। ওই সময় করা মামলায় ফিলিপাইনের আদালত গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে মুদ্রাপাচারের আট দফা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং অর্থদণ্ড দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে