ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

২০১৯ মার্চ ১২ ০৬:৫৩:৫১
ব্যাংকিং খাত সংস্কারে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ, খেলাপি ঋণ আদায় এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্য প্রতিষ্ঠানে একীভূত করাসহ এ খাত সংস্কারে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সংস্কারের আওতায় আরও থাকছে- ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিত করতে ব্যাংকগুলোতে বিশেষ অডিট পরিচালনা এবং অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ।

গত ৫ মার্চ এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। এতে বলা হয়, আইনগুলো সংস্কারের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক কার্যক্রম গ্রহণের আইনগত আবশ্যকতা রয়েছে। এছড়া ব্যাংকগুলো মার্জার বা একীভূত করার কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার তথা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ওই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকিং খা্ত সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়।

এ লক্ষ্যে একটি খসড়া সুপারিশমালা তৈরি করে মতামত চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের কাছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য বিশেষ অডিট সম্পাদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে। সে অডিটের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো ব্যাংকিং খাত সংস্কারের কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংক মার্জারের ঘটনা উন্নত বিশ্বে অহরহ ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে মার্জার করা হয় প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বড় হওয়ার জন্য। এ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে যুক্ত করা গেলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একীভূতকরণের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় চারটি সরকারি ব্যাংকের একটি তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেড রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক মার্জারের আগে আমরা ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন পর্যালোচনা করেছি। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৯(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে- কোনো ব্যাংকের অনুরোধক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রস্তাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩’-এর বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণে সহায়তা করার ক্ষমতা রাখে।

উভয় আইনের বিধান বাস্তবায়নে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূতকরণের জন্য ২০০৭ সালে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলোর ভিত্তিতেই নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে। ব্যাংকগুলোর অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) একটি গবেষণা করেছে। সেখানে বলা হয়, ৭২ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করেন বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ব্যাংক রয়েছে তা কমাতে হবে।

ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ কর্মকর্তাই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জার বা একীভূতকরণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তবে দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে আরেকটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত না করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় দেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি। বর্তমানে দেশে ৫৮টি তফসিলি ব্যাংক কার্যক্রমে আছে। নতুন নতুন ব্যাংকও এ খাতে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়া ব্যাংকের সংখ্যা এখন ৬২। এদিকে গত এক দশক ধরে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের চাপে পড়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। খেলাপি ঋণের কারণে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে অনেক ব্যাংক।

পরিচালন মুনাফা করেও এ ব্যাংকগুলো শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশিত মুনাফা দিতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এর আগে ২০০৯ সালে শিল্প ঋণ সংস্থা ও শিল্প ব্যাংক একীভূত করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) গঠিত হয়। এরপর দেশের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ পথে হাঁটেনি।

শেয়ারবার্তা / মামুন

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে