ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

যে কারণে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে গ্রামীণফোন

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ২০ ০৭:৪৬:০৩
যে কারণে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে গ্রামীণফোন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকম খাতের শীর্ষ সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের দখলে মোবাইল ফোন বাজারের বড় অংশ। তারপরও নরওয়েভিত্তিক টেলিনর গ্রুপের বহুজাতিক কোম্পানিটির সেবাবহির্ভূত দুই খাত থেকে আয়ে ভাটা নেমেছে। এর কারণ হলো দুই প্রতিযোগীর একীভূতকরণে রবি আজিয়াটার আত্মপ্রকাশ ও মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সুবিধাসহ গ্রাহকদের বেশকিছু সুবিধা প্রদান। তবে ব্যয় কমিয়ে উদ্ভূত বিরূপ পরিস্থিতি সামলে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৮ সালে গ্রামীণফোনের আয় ছিল প্রায় ১৩ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা এর আগের আর্থিক বছরে ছিল প্রায় ১২ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। এ হিসেবে এক বছরে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে তিন দশমিক ৪২ শতাংশ বা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। অথচ তার আগের (২০১৬-১৭) আর্থিক বছরে গ্রামীণফোনের আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ। ওই আর্থিক বছরে গত পাঁচ বছরের মধ্যে আয়ে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি করে টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানিটি। এর পরের বছরেই বড় ধাক্কা খেয়েছে গ্রামীণফোন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেলফোন অপারেটর হিসেবে ভয়েস-নন ভয়েস ট্যারিফ, সিম বিক্রি-সংযোগ ও আন্তঃসংযোগ ফি গ্রামীণফোনের আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এর বাইরে মোবাইল হ্যান্ডসেট-সরঞ্জাম, রিচার্জ কার্ড বিক্রি ও কমিশন থেকে আয় করে কোম্পানিটি। ২০১৮ সালে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তিন খাতের মধ্যে দুই খাত থেকেই গ্রামীণফোনের আয় কমছে।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভয়েস-নন ভয়েস ট্যারিফসহ অপারেটর হিসেবে দেওয়া সেবার ফি থেকে গ্রামীণফোন আয় করেছিল প্রায় ৯ হাজার ৮৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ওই বছরে বাকি দুই খাত থেকে কোম্পানিটির আয় ছিল প্রায় ৪১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ২০১৮ সালে ভয়েস-নন ভয়েস ট্যারিফসহ অপারেটর হিসেবে দেওয়া সেবার ফি থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৭৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আয় করেছে কোম্পানিটি। ভয়েস ও ইন্টারনেট ডেটা বিক্রির ওপর ভর করে এ আয় বেড়েছে। তবে বাকি দুই খাতের আয়ই আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সর্বশেষ ওই দুই খাতের আয় নেমেছে প্রায় ৪০ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ ভয়েস-নন ভয়েস খাতের আয়ের বাইরে অন্য দুই খাত থেকে গ্রামীণফোনের আয় এখন তলানিতে, যে কারণে এবার আয়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

এদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যয় কমিয়েছে গ্রামীণফোন। ২০১৮ সালে কোম্পানিটি পরিচালন-রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রয়-বিপণন ছাড়া সাতটি খাতের মধ্যে পাঁচটিতেই ব্যয় কমিয়েছে। এর ফলে গ্রামীণফোনের পরিচালন ব্যয় প্রায় ৩০২ কোটি টাকা কমেছে। এ কারণে আয়ের তুলনায় পরিচালন মুনাফা প্রায় ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। আর আর্থিক বছর শেষে গ্রামীণফোনের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫১৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ২১ শতাংশ বা প্রায় ৭৭৪ কোটি টাকা বেশি।

উল্লেখ্য, টেলিনর গ্রুপের অঙ্গসংগঠন গ্রামীণফোন প্রায় সাত কোটি ২৭ লাখের বেশি গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষে রয়েছে। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরুর পর দুই দশকে দেশজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে গ্রামীণফোন। ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক সেলফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনের প্রায় ১৩৫ কোটি তিন লাখ শেয়ার পুঁজিবাজারে রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির ৯০ শতাংশ শেয়ারই উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি ১০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

কোম্পানী সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে