ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

নিলামে উঠছে ওয়ান ব্যাংক চেয়ারম্যানের সম্পত্তি!

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৯:০৭:২৩
নিলামে উঠছে ওয়ান ব্যাংক চেয়ারম্যানের সম্পত্তি!

বেসরকারি ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন এইচআরসি শিপিং লাইনসের কাছে সুদসহ ১২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওনা আদায়ে কোম্পানিটির সম্পত্তি নিলামে তুলছে বেসরকারি আরেক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

জানা যায়, বেসরকারি ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী এইচআরসি গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আর এ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচআরসি শিপিং লাইনসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে তিনি ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন। কিন্তু ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের খেলাপির তালিকায় নাম উঠেছে তার। তাই পাওনা আদায়ে বন্ধকিতে থাকা চট্টগ্রামের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাঈদ হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইচআরসি শিপিং লাইনসের কাছে সুদসহ মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ১২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর এ পাওনা আদায়ে সাঈদ হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান আরাকান এক্সপ্রেস লিমিটেডের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ৩১ দশমিক ৮০ ডিসিমেল জমির ওপর নির্মিত বাণিজ্যিক শেড ও সংশ্লিষ্ট সব ধরনের স্থাপনা নিলামে বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দফায় নিলামের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও শেষ সময়ে আবারও তা বর্ধিত করে ১৭ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পারিবারিকভাবেই তাদের শিপিং লাইনস হানজিন ও পিআইএল বেশ কয়েকটি শিপিং লাইনসের ব্যবসা ছিল। সে সুবাদে নিজেই এইচআরসি শিপিং লাইনস নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এক সময় আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য আনা-নেওয়ায় প্রায় আটটি জাহাজ ছিল এ কোম্পানির বহরে। তবে বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নেই। এছাড়া বারিধি শিপিং লাইনস লিমিটেড, এভারগ্রিন, বাংলাদেশ ল্যান্ড লিমিটেড, এইচআরসি সিন্ডিকেট, এইচআরসি ট্রাভেলস, এইচআরসি লাইটিং, এইচআরসি প্রপার্টিজ, এইচআরসি শিপিং, এইচআরসি মিডিয়া, আরাকান এক্সপ্রেস লিমিটেডসহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আছেন সাঈদ হোসেন চৌধুরী। তবে সামগ্রিকভাবে এ গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অনেকটা কমে এসেছে।

ওয়ান ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এর অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৫২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাজারে মোট শেয়ার ৫২ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭০২টি; যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৩১ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৯ দশমিক এক, বিদেশি বিনিয়োগকারী দশমিক ৩৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার। এর মধ্যে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরীর এককভাবে শেয়ার আছে দুই কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ২৮০টি। তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর শেয়ার আছে তিন কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৪টি। অর্থাৎ উভয়ের মোট শেয়ারের পরিমাণ ছয় কোটি চার লাখ ৫৪ হাজার ১৬৪টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঋণখেলাপির বিষয়টি সিআইবি রিপোর্টে আছে। এখন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে দুই মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিস দেব। এ সময় তিনি যদি ওভারকাম করতে পারেন, তাহলে ভালো। অন্যথায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ হারাবেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদ্যমান ব্যাংক আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এ বিষয়ে জানার জন্য সাঈদ হোসেন চৌধুরীর সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস পাঠালেও তার কোনো জবাব দেননি তিনি।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসনের অভাব, ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কম থাকার কারণেই মূলত ঋণখেলাপির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে অন্যান্য ঋণখেলাপির সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালকরাই এখন খেলাপি তালিকায় উঠে আসছেন। বিষয়টি লজ্জাজনক। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে ঋণ ভাগাভাগি করায় সেখানেও খেলাপির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে আগামীতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে। এক্ষেত্রে খেলাপিদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে