ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৪ বৈশাখ ১৪২৬

বিমা খাতকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১১ ০৬:৩৩:৪৪
বিমা খাতকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে

ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ আরও যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে বিমা খাতটি অনেক দুর্বল। বিমা ব্যবস্থাপনায় এখনও অনেক অনিয়ম রয়েছে। যেহেতু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক কম সময়ের মধ্যে আধুনিকায়নের পর্যায়ে এসেছে, তাই এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিমা খাতের ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে এবং জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। যদি শক্তিশালী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব গঠন করা না যায়, তাহলে বিমা খাতে ভালো করা যাবে না। রোববার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবিবির সাবেক সভাপতি মো. নুরুল আমিন এবং রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ আল কবীর।

এবিবির সাবেক সভাপতি মো. নুরুল আমিন বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা এবং অবলোপন আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা। আবার আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। যদিও এটি সেভাবে প্রকাশিত হয় না। নতুন অর্থমন্ত্রী বলেছেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। খেলাপি ঋণের টাকা আদায়ে বিদ্যমান উপায়গুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের টাকা কীভাবে আদায় করা যায় এবং কমানো যায়, সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পুঁজিবাজার কতটুকু অর্থবহ? কারণ, বছরে কটি ভালো মানের কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলে। আবার যেসব কোম্পানি আসে, তাদের বেশিরভাগই স্বল্পমূলধনি। বাজার সম্প্রসারণ করতে হলে ভালো মানের দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি, বন্ড এবং ডিবেঞ্চার আনতে হবে।

রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ আল কবীর বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ। এমন দেশের ব্যাংকগুলোয় অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো ভালোভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ১০ বছর আগে ব্যাংক খাতে অনেক কিছু লুকানো যেত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কোনো ইউনিট ও গবেষণার তেমন চর্চা ছিল না। এখন ব্যাংক খাত অনেক আধুনিকায়ন হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কিছু গোপন রাখার সুযোগ নেই এবং স্বচ্ছতা অনেক বেড়েছে। এছাড়া প্রতিটি ব্যাংক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ইউনিট ও গবেষণাচর্চা শুরু করেছে। বিগত বছরে ব্যাংক খাতে বিশেষ করে হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো কিন্তু ব্যাংকের ভেতরের লোকই বের করেছে। যদি ব্যাংক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও আইনের গতিশীলতা থাকত এবং অনিয়মগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হতো। তাই ব্যাংক ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন করতে হবে এবং স্বচ্ছতার ভেতর আনতে হবে। আবার ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ আরও যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এর মধ্যে বিমা খাতটি অনেক দুর্বল। বিশেষ করে বিমা ব্যবস্থাপনায় অনেক অনিয়ম রয়েছে। যেহেতু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক কম সময়ের মধ্যে আধুনিকায়নের পর্যায়ে এসেছে, তাই এক থেকে দুবছরের মধ্যে বিমা খাতের ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে এবং জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। যদি বিচক্ষণ নেতৃত্ব গঠন না করা যায়, সেক্ষেত্রে বিমা খাতে ভালো করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার ভালো করতে হলে সরকারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকসহ আরও যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়া বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আসবে। আবার বাজার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, এজন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে স্বচ্ছতায় আনতে হবে। এর জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

উপরে