ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য ‘কোয়ালিফাইড অফার’ চুড়ান্ত  

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৭:০৫:৩৫
স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য ‘কোয়ালিফাইড অফার’ চুড়ান্ত

 

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ার কিনতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে নিজেদের প্রস্তাব করা দরেই শেয়ার কিনতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজারে প্রথমবারের মতো 'ট্রু ডাচ্‌-অকশন' পদ্ধতি প্রচলন হতে যাচ্ছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এমন বিধান রেখে গত ৩০ জানুয়ারি কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) বাই স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানিজের নতুন বিধিমালার (রুলস) গেজেট প্রকাশ করেছে।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য নতুন বিধিমালায় দেখা গেছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যেসব স্বল্প মূলধনী কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করবে, তারা শেয়ার বিক্রি থেকে অধিক অর্থ পাবে অর্থাৎ সরাসরি কোম্পানি লাভবান হবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক যোগসাজশে শেয়ারদর বাড়ানোর যে অভিযোগ আছে, তাও কিছুটা বন্ধ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইপিওর বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় দর প্রস্তাবকারীরা বিভিন্ন দর প্রস্তাব করলেও সবাই নির্দেশক মূল্যে (কাট অব প্রাইস) শেয়ার কেনার সুযোগ পান। আবার দর প্রস্তাবকারীরা বিভিন্ন সংখ্যক শেয়ার কেনার প্রস্তাব করলেও সবাইকে সমান হারে শেয়ার বরাদ্দ করা হয়। এমনকি যারা নির্দেশক মূল্যের কম দর প্রস্তাব করে, তাদেরও ওই নির্দেশক মূল্যে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বল্প মূলধনী কোম্পানির কিউআইওতে এ সুযোগ থাকছে না।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির সংশোধিত কিউআইওর বিধিমালার ৪(৩)(এম) উপধারায় বলা হয়েছে, বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় দর প্রস্তাবকারীদের যিনি যে দরে যত শেয়ার কিনতে চাইবেন, তাদের প্রস্তাব করা দরে ওই সংখ্যক শেয়ার বরাদ্দ করা হবে।

মূল শেয়ারবাজারে বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ার অনিয়ম দূর করতে আইপিও বিধান সংশোধনে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি গঠিত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি এমন পদ্ধতি প্রচলনের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু কমিশনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আপত্তির মুখে ওই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়নি। স্বল্প মূলধনী কোম্পানির ক্ষেত্রে নতুন বিধানটি প্রচলনের কারণ ব্যাখ্যায় সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে শেয়ারবাজারমুখী করতে কিছু সুবিধা প্রদানের বিবেচনা থেকে এ বিধান করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনী কোম্পানির জন্য এতদিন আইপিওতে আসার সুযোগ ছিল না। অর্থ মন্ত্রণলায়ের এক নির্দেশনায় ২০০৯ সালের পর স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজার থেকে মূলধন উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন বিধানের মাধ্যমে আবারও তারা সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। তবে এমন কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনাবেচার জন্য 'স্মলক্যাপ বোর্ড' নামে আলাদা সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারও সৃষ্টি করা হবে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূল বাজারের আইপিওর মতো কিউআইওতে দুই পদ্ধতিতে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি করা যাবে। যেসব কোম্পানি অভিহিত মূল্যে শেয়ার বিক্রি করতে চাইবে তারা ফিক্সড প্রাইস বা নির্দিষ্ট মূল্য পদ্ধতিতে শেয়ার বিক্রি করবে। অন্যদিকে শেয়ারের অভিহিত বা প্রকৃত মূল্যের থেকে বেশি দরে (প্রিমিয়ামে) শেয়ার বিক্রি করতে চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও মূল বাজারের মতো ইলেকট্রনিক বিডিং প্রক্রিয়ায় দর নির্ধারণ হবে।

কিউআইওর বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় নির্দেশক মূল্য বা এর বেশি দর প্রস্তাবকারীদের শেয়ার না কিনে উপায় থাকবে না। কারণ, দর প্রস্তাবকারীদের সবাইকে প্রস্তাবিত দরে প্রস্তাব করা শেয়ার কিনতে যত টাকা প্রয়োজন তার শতভাগ আগেই জমা দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক বিডিং প্রক্রিয়া চলবে টানা ১২০ ঘণ্টা। এ সময়ে দর প্রস্তাবকারী সর্বোচ্চ একবার নিজের প্রস্তাব সংশোধনের সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমবারের দর প্রস্তাব থেকে সংশোধিত দর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বেশি থেকে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ কম হতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন যত দরে শেয়ার বিক্রি হবে, সেটাই কিউআইও প্রক্রিয়ার নির্দেশক মূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোম্পানির প্রস্তাব করা সব শেয়ার এ প্রক্রিয়ায় কেনার প্রস্তাব পাওয়া যায়, তবে নির্দেশক মূল্য শুধু দাপ্তরিক তথ্য হিসেবে নথিভুক্ত হবে। কিউআইওতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শেয়ারের ক্রেতা না মিললে সে ক্ষেত্রে নির্দেশক মূল্যে আন্ডাররাইটার অর্থাৎ অবলেখনকারী (আইপিওতে অবিক্রীত শেয়ার কেনার নিশ্চয়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান) কিনে নেবে। অবশ্য ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ার অবিক্রীত থাকলে ওই কিউআইওটিই বাতিল হবে।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে