ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬

শাহাজিবাজার পাওয়ারের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুকেন্দ্র উদ্বোধন

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৬:৫৮:০০
শাহাজিবাজার পাওয়ারের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুকেন্দ্র উদ্বোধন

শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড পাওয়ার কোম্পানির সাবসিডিয়ারি মিডল্যান্ড ইস্ট পাওয়ারের ১৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এইচএফওভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নতুন ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সন্দ্বীপে ৯টি গ্রিড উপকেন্দ্র ও ১২টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামে অবস্থিত মিডল্যান্ড ইস্ট পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও রয়েছে।

মিডল্যান্ড ইস্ট পাওয়ারের ৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে শাহজিবাজার পাওয়ারের সহযোগী মিডল্যান্ড পাওয়ারের কাছে। আবার মিডল্যান্ড পাওয়ারের ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে শাহজিবাজার পাওয়ারের কাছে। অর্থাৎ কার্যত নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৪৮ দশমিক ৫১ শতাংশের মালিক তালিকাভুক্ত শাহজিবাজার পাওয়ার।

শাহজিবাজার পাওয়ারের কোম্পানি সচিব ইয়াসিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, গত বছর থেকেই আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল পাওয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ার কারণে গতকাল এর উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বছরে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা মুনাফা আসবে। ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির রেভিনিউ ও মুনাফায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) থেকেই এর সুফল পরিলক্ষিত হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য সময়ে শাহজিবাজার পাওয়ারের রেভিনিউ হয়েছে ৭৩৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৮৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর এ সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৭০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৯৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সা, যা এর আগের বছরে ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা।

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে আগের বছরের তুলনায় সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে রেভিনিউ ও মুনাফা কমার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারের কাছ থেকে চাহিদামতো কাঁচামাল না পাওয়ার কারণে শাহজিবাজারের ৯০ শতাংশ সাবসিডিয়ারি পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারির উৎপাদন কমে গেছে। তাছাড়া ১৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগের কারণে সহযোগী কোম্পানি মিডল্যান্ড পাওয়ারের লোকসান হয়েছে। আর এসব কারণেই শাহজিবাজারের রেভিনিউ ও মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে চলতি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকের (জুলাই-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির রেভিনিউ হয়েছে ৩৭২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১০ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮২ পয়সা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে আশুগঞ্জে বিল্ড ওন অ্যান্ড অপারেট (বিওও) শর্তে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে বিপিডিবির অনুমতিপত্র (এলওআই) পায় মিডল্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। এলওআই পাওয়ার নয় মাসের মধ্যে অর্থাৎ গত বছরের মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারে নি কোম্পানি। চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তারিখ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে সরকারের বিদ্যুৎ কেনার কথা রয়েছে। এজন্য ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর বিপিডিবির সঙ্গে মিডল্যান্ড পাওয়ারের পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) ও পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে ইমপ্লিমেন্টেশন এগ্রিমেন্ট (আইএ) স্বাক্ষরিত হয়। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস পর গত বছরের ২৬ নভেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। এ বিলম্বের জন্য তাদের কিছু জরিমানাও গুনতে হতে পারে।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে