ঢাকা, সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ৮ মাঘ ১৪২৫

বস্ত্র খাতে আরও সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে

২০১৯ জানুয়ারি ০৮ ০৭:২৭:২৩
বস্ত্র খাতে আরও সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে

দেশের বস্ত্র খাতে গত পাঁচ বছরে সাত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন।

সোমবার রবিবার রাজধানীর পান্থপথে বিটিএমএ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আরো পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ১৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট মেশিনারি এক্সিবিশন (ডিটিজি) উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই সাত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হয়। এ সময় নতুন কারখানা হয়েছে ৪৪টি। এর মধ্যে ১৯টি স্পিনিং, ২৩টি ফ্যাব্রিকস ও দুটি ডায়িং প্রিন্টিং মিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘বর্তমানে বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি। খাতটি দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্পের সংযোগ শিল্প হিসেবে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে এতে আরো ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে আমদানির মাধ্যমে এই ঘাটতি মেটাতে হয়। তাই এই খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের আশা, আগামী পাঁচ বছরে আরো পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।’

সরকার এই খাতে প্রণোদনা দিলেও শিল্পের বাধাও কম নয় উল্লেখ করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এখনো শিল্পের ৩০-৩৫ শতাংশ গ্যাসসংকট রয়েছে। সরকার ব্যাংকের করপোরেট কর কমালেও সুদের হার এখনো এক অঙ্কে নেমে আসেনি। এ ছাড়া শ্রম মজুরি বেড়েছে; একই সঙ্গে গত তিন বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৫৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকট মেটাতে সরকার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে। তবে এলএনজি গ্যাসের সঙ্গে মিশ্রণের পর এর সরবরাহ মূল্য যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকলেও এর সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা অতি দ্রুত সরকারের এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আশা করছি। এর ফলে স্থানীয় বিনিয়োগসহ বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে।’

বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বস্ত্র খাতের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১১০টির মতো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে শুধু প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের মিলগুলোর জন্য ন্যূনতম ২৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

ডিটিজি প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বস্ত্র খাত বর্তমান বিশ্বে প্রতিনিয়ত আধুনিকায়ন হচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করে দিতে ১৫ বছর ধরে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। ১৫ বছর আগে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে এই প্রদর্শনীর যাত্রা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে এর কলেবর বা ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে এর আকার ১৫ গুণ বেড়েছে। তাই টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট খাতে আমাদের সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধিতে ডিটিজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ বছর বিশ্বের ৩৭ দেশের প্রখ্যাত এক হাজার ২০০ টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট মেশিনারি প্রস্তুতকারক কম্পানি ১১টি হলে এক হাজার ৬৫০টি বুথ নিয়ে অংশগ্রহণ করছে।’

আগামী মঙ্গলবার দুপুর ২টায় রাজধানীর আইসিসিবিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে