ঢাকা, সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ৮ মাঘ ১৪২৫

তিন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ডিএসই’র সতর্কবার্তা

২০১৯ জানুয়ারি ০৮ ০৭:১৭:২০
তিন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ডিএসই’র সতর্কবার্তা

শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই তালিকাভুক্ত শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ও আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের। সম্প্রতি অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কোম্পানিগুলো এমন তথ্য জানায়। এর প্রেক্ষিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা জারি করেছে।

শাইনপুকুর সিরামিকস: গত ২৬ ডিসেম্বর তারিখে শেয়ারদর ছিল ১৩ টাকা ৮০ পয়সা, যা গত রোববার লেনদেন হয় ১৬ টাকা ৯০ পয়সা। এ হিসেবে পাঁচ কার্যদিবসে দর বেড়েছে তিন টাকা ১০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

সোমবার ডিএসইতে শেয়ারদর দুই দশমিক ৯৬ শতাংশ বা ৫০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ১৬ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১৬ টাকা ৪০ পয়সা। দিনজুড়ে এক লাখ ৮৯ হাজার ৪১১টি শেয়ার মোট ২২৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৩১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এক বছরে শেয়ার দর ১২ টাকা থেকে ২২ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানির ৫০০ কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৪৬ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৬৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৫০ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার।

নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং: চলতি জানুয়রি মাসের দুই তারিখে শেয়ারদর ছিল এক হাজার ২০০ টাকা, যা সোমবার লেনদেন হয় এক হাজার ৪০১ টাকা ৩০ পয়সা। এ তিন দিনে দর বেড়েছে ২০১ টাকা ৩০ পয়সা। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

সোমবার ডিএসইতে শেয়ারদর তিন দশমিক ৭২ শতাংশ বা ৫০ টাকা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ এক হাজার ৪০৫ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল এক হাজার ৪০১ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে আট হাজার ৩২টি শেয়ার মোট ৩৬৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এক বছরে শেয়ার দর ২৪৫ টাকা থেকে এক হাজার ৪৩৯ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৭ টাকা ১৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা চার পয়সা।

আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং: চলতি জানুয়ারি মাসের দুই তারিখে শেয়ারদর ছিল ৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা সোমবার লেনদেন হয় ১২ টাকা ১০ পয়সা। এ তিন দিনে দর বেড়েছে দুই টাকা ৬০ পয়সা। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

সোমবার ডিএসইতে শেয়ারদর ১০ শতাংশ বা এক টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১২ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১২ টাকা ১০ পয়সা। দিনজুড়ে এক কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯৪টি শেয়ার মোট চার হাজার ৩৯৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৯ কোটি ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এক বছরে শেয়ারদর আট টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৪ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৭৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ১৩ পয়সা।

কোম্পানিটির ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে